দেবব্রত মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: টাকা দিলেই মিলবে চাকরি। এভাবেই সিআইডি আধিকারিক পরিচয়ে চলত প্রতারণা। এবার টাকার টোপ দিয়ে দুই প্রতারককে ফাঁদে ফেলে ধরল পুলিশ ও সিআইডি আধিকারিকদের একটি দল। ধৃতরা হল কার্তিক নাথ ও পুজারী বাশফোর। দু’জনের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল এলাকায়। অভিযোগ, ধৃতরা সিআইডি পরিচয়েই চাকরির লোভ দেখাত। এভাবেই লোকজনদের থেকে টাকা নিত দু’জনে। শেষমেশ সিআইডির পাতা ফাঁদেই পা দিল দুই অভিযুক্ত।
[ধর্ষণের কথা জানাজানি হতেই বারুইপুরে আত্মঘাতী নাবালিকা]
জানা গিয়েছে, চাকরি প্রার্থী পরিচয়ে কার্তিককে টাকার টোপ দেওয়া হয়। টাকা নিতেই শনিবার বারুইপুর কোর্টের পিছনে আসে ধৃতরা। আগে থেকেই সেখানে ফাঁদ পেতে বসেছিল আট জনের সিআইডি টিম ও বারুইপুর থানার পুলিশ। সাজানো চাকরি প্রার্থীর থেকে টাকা নিতে গিয়েই হাতেনাতে ধরা পড়ে দুই মক্কেল। দু’জনকেই তারপর বারুইপুর থানায় নিয়ে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
[ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা যুবকের, বালুরঘাটে চাঞ্চল্য]
পুলিশ ও সিআইডি সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই প্রতারণার অভিযোগ পাচ্ছিল বারুইপুর থানার পুলিশ। চাকরির নাম করে প্রতারণা। যেখানে চাকরি প্রার্থীর থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিত দুই ভুয়ো সিআইডি আধিকারিক। ২০১২ থেকেই এই প্রতারণার ব্যবসা ফেঁদে বসে কার্তিক ও পুজারী। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তারা লোকজনকে চাকরির প্রলোভন দিত বলে অভিযোগ। বিভিন্ন সময় বারুইপুর থানায় এনিয়ে অভিযোগও দায়ের হয়েছে। কিছুদিন আগে প্রতারিতরা একটি এনজিওর কর্মীদের বিষয়টি জানান। তারপর সেই এনজিও-র তরফে ভবানীভবনে পৌঁছায় প্রতারণার খবর। শুরু হয় তদন্ত। শেষপর্যন্ত বারুইপুর থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সিআইডি আধিকারিকরা। সাজানো চাকরি প্রার্থীকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করতে পাতা হয় ফাঁদ। এদিন সেই ফাঁদেই পা দিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ল দুই ভুয়ো সিআইডি আধিকারিক। আগামিকাল ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। ধৃতদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে সিআইডি। মূলত, কতদিন ধরে এই প্রতারণা চক্র চলছে, কে বা কারা এই চক্রের মূল হোতা ও এপর্যন্ত ঠিক কতজনকে প্রতারণা করা হয়েছে? ধৃতদের থেকে এসব উত্তর পেতেই তাদের হেফাজতে চাইছেন সিআইডি আধিকারিকরা।
