হিন্দু রাষ্ট্র নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভারতে মুসলিম ও খ্রিস্টানরা কোনও ধরনের হুমকির সম্মুখীন নন। আমাদের পূর্বপুরুষ এক। কোনও ভেদাভেদ নেই। এই মন্তব্য করলেন যোগগুরু বাবা রামদেব। 'হিন্দু রাষ্ট্র' সম্পর্কিত মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, গেরুয়া রাজনৈতিক দলের কাছের মানুষ রামদেবের এই মন্তব্য ইঙ্গিতবাহী। ঠিক কী বলেছেন তিনি?
২০০৯ সালে উত্তরপ্রদেশের একটি মাদ্রাসার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রামদেব। সেই সময়ে তাঁর মন্তব্য তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে যোগগুরু বলেছেন, "২০০৯ সালে হরিদ্বারে দেওবন্দে আমন্ত্রিত হই। আমি ওদের (মুসলিমদের) বলেছিলাম, আমাদের ধর্ম আলাদা হতে পারে কিন্তু পূর্বপুরুষ এক। ফলে হিন্দু রাষ্ট্র নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের সকলের পূর্বপুরুষরাই ছিলেন সনাতন হিন্দু আর্য-বৈদিক। এটা লিখিত সত্য।"
এখানেই না থেমে দেশের সংখ্যালঘুদের বিশেষ পরামর্শও দিয়েছেন রামদেব। তিনি বলেন, "কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠিত হলে মুসলমানরা কোথায় যাবে? সহজ উত্তর হল— নিজেদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যকে আপন করে নিন। আপনি দাড়ি রাখতে পারেন বা কামিয়ে ফেলতে পারেন; যে কোনও পোশাক পরতে পারেন, কিন্তু আপনার চরিত্র যেন আপনার পূর্বপুরুষদের মতোই হয়। হিন্দুস্তানে মুসলমান বা খ্রিস্টানদের কোনও বিপদের মধ্যে নেই।"
রামদেবের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা সলমান খুরশিদের প্রশ্ন, যদি সকালেই সনাতনি তাহলে এত বিভাজন তৈরি করা হয় কেন? অন্যদিকে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএম-এর মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠান বলেন, "প্রথমত, এই দেশ সংবিধান অনুযায়ী চলে এবং ভবিষ্যতেও চলবে; কে আপনাকে বলল যে এটি 'হিন্দু রাষ্ট্র' হয়ে গেছে? আমি প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, আমাদের দেশকে কি হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়েছে? একজন মুসলমান কাউকে ভয় পায় না।" ওয়ারিসের দাবি, ঘুরিয়ে ঘৃণাই ছড়াচ্ছেন রামদেব। সমাজবাদি পার্টির নেতা ফখরুল হাসান চাঁদের অভিযোগ, ‘জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা’ থেকে মনোযোগ সরানোর কৌশলেরই একটি অংশ এই ধরনের মন্তব্য।
