কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, "বিশেষ বিশেষ এমপিদের ডাকব। আজকে বিশেষ বিশেষ এমপিদের মধ্যে বারাসতের এমপিকে আমরা বিশেষ বিশেষভাবে ডেকেছিলাম। তিনি সহযোগিতা করেছে।" অন্যদিকে, কাকলি এই বৈঠক নিয়ে অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নেন।
বিরোধী দলের এই 'বিশেষ বিশেষ' সাংসদ কারা? এই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, "যাঁরা অনেকদিন পর সত্যি কথা বলছেন, তাঁরাই বিশেষ বিশেষ সাংসদ। যারা বলছেন, আপনারা আমাদের স্বাধীনতা পাইয়ে দিচ্ছেন।" এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংবাদমাধ্যমে বারাসতের সাংসদ কাকলির বক্তব্য শুনেছেন তিনি। এরপরই তাঁকে প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানায় রাজ্য সরকার।
আগে কোনও বৈঠকে বলার সুযোগ পেতেন না, এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অনুযোগ করেন কাকলি। মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে বলার সুযোগ পেয়ে তিনি খুশি হয়েছেন। মিটিংয়ে যোগদানের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হাতও মিলিয়েছেন তিনি। এদিন মিটিং শেষে সাংবাদিক বৈঠকে এমনই দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই বৈঠকে যোগদান করা নিয়ে অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন কাকলি। তিনি বলেন, “শুভেন্দুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত পুরনো। ওঁ আমার কাজের ধরন খুব ভালো করেই জানে, আমিও ওঁর কর্মপদ্ধতি জানি। সেই কারণেই ওঁ আমাকে এই বৈঠকে ডেকেছে। আর দিনশেষে আমাকে তো মানুষের জন্য, এলাকার উন্নয়নের জন্যই কাজ করতে হবে।” পাশাপাশি তিনি জানান, বারাসত লোকসভা এলাকার নিকাশী সমস্যার সমাধানে সুটি ও বাণীকণ্ঠ নোয়াইখাল সংস্কার, দেগঙ্গা এলাকায় সোলার লাইট, সীমান্ত এলাকায় গাছ কাটা বন্ধ ও জলাশয় ভরাট রোখার মতো বিষয়ও তিনি বৈঠকে উত্থাপন করেছেন।
মঙ্গলবার কল্যাণীতে দলের সমস্ত সাংসদ, বিধায়কদের নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক আধিকারিকরাও। মূলত তিন জেলা অর্থাৎ নদিয়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনা নিয়ে এই বৈঠক হয়। এই বৈঠকেই আমন্ত্রণ জানানো হয় বিরোধী দলের সাংসদ-বিধায়কদের। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিদ্ধান্ত নেন, এবার থেকে সমস্ত প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হবে বিরোধী দলের সাংসদ-বিধায়কদেরও। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বয়কটের রাজনীতি’র উলটো পথে হেঁটেই এহেন সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই মতো এদিন কল্যাণীর বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ এবং বিধায়কদেরও ডাকা হয়। সেই আমন্ত্রণ পেয়েই এদিন বৈঠকে যোগ দেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ আরও তিন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁদের ডাকা নিয়েই প্রশাসনিক বৈঠকের পর মন্তব্য করেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আগে বিডিও, ওসি'রাও বিজেপির এমপিদের ফোন ধরতেন না। এই সিস্টেম ঠিক নয়। আজকের প্রশাসনিক বৈঠকে বসিরহাটের একাধিক বিরোধী দলের বিধায়করাও এসেছিলেন। তাঁদের মধ্য়ে একজনকে বলার সুযোগ দিয়েছি। আমরা চাই কেন্দ্র-রাজ্য ডবল ইঞ্জিনের সুবিধা মানুষ পান। কেবলমাত্র নির্বাচনের সময়ই রাজনৈতিক কচকচানি হোক।"
