আলিপুরদুয়ারের থানা রোডের ধারের রেস্তারাঁ। দিনভর ভিড় লেগেই থাকে। বাণিজ্যিক গ্যাস (Commercial Gas Crisis) না মেলায় ও দাম বাড়ায় রান্নার পদের সংখ্যা কমিয়েছেন মালিক। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে রেস্তারাঁ বন্ধ করতে হবে আশঙ্কা মালিকের। শহরের আরও একটি বিখ্যাত হোটেলেও পদের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন মালিক। ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে, স্বীকার করেও কিছু করার নেই বলে আক্ষেপ তাঁর।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ পড়েছে বাঙালির হেঁশেলে। বাণ্যিজিক গ্যাসের ডেলিভারিতে প্রভাব পড়েছে। সমস্যায় বিভিন্ন রেস্তরাঁ, হোটলের মালিকরা। এই আবহে আলিপুরদুয়ার-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় ১৮০০ টাকার কমার্সিয়াল গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকায়। অভিযোগ, তারপরও মিলছে না গ্যাস। বাধ্য হয়ে খাবারের মেনুতে কাটছাঁট করছেন হোটেল মালিকেরা। যে হোটেলে ১৫ থেকে ১৬ পদের রান্না হত, সেখানে এখন ১০টিরও কম পদ রান্না হচ্ছে। যোগান না থাকলে হোটেল খুলে রাখা সম্ভব নয় বলে আশঙ্কা হোটেল, রেস্তরাঁ মালিকদের।
আলিপুরদুয়ার শহরের এক নামকরা হোটেলের মালিক দেবব্রত চট্যোপাধ্যায় বলেন, "আমাদের প্রতিদিন কমার্সিয়াল গ্যাসের দু'টো সিলিন্ডার লাগে। তা পাচ্ছি না। ইতিমধ্যে ৮ পদ রান্না কমিয়ে দিয়েছি। এভাবে ব্যবসা চালাতে পারব না। এদিকে গ্যাসের দাম বাড়লেও খাবারের দাম বাড়াতে পারছি না। দাম বাড়ালে গ্রাহকরা অভিযোগ করছেন। আমাদের পরিবার কীভাবে চলবে? হোটেলের কর্মীদেরইবা কী হবে ভেবে পাচ্ছি না।" আরেক হোটেলের মালিক অভিজিৎ দাস বলেন, "গোটা পরিস্থিতিটাই বিগড়ে গিয়েছে। গ্যাস পাচ্ছি না। পদ কমিয়ে দিয়েছি। ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। এইভাবে ধাবা চালাতে পারব না।" আলিপুরদুয়ার গ্যাস সার্ভিস সেন্টারের কর্ণধার সুজিত সাহা বলেন, "শুধু কলেজ ও হাসপাতালগুলোতেই কমার্সিয়াল সিলিন্ডার সাপ্লাই দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। সেই কারণে সর্বত্র কমার্সিয়াল সিলিন্ডার দিতে পারছি না। যার জেরে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই।"
