পারিবারিক বিবাদের জেরে নার্সকে পুড়িয়ে খুন! অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু সরকারি নার্সের! আহত হয়েছেন তাঁর স্বামীও। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারে। পারিবারিক বিবাদের জেরেই নার্সকে পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দিয়েছেন বলে অনুমান স্থানীয় বাসিন্দাদের। তবে পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নার্সের নাম ছন্দা রায়। বয়স আনুমানিক ৩৫। তিনি কোচবিহার এমজেএম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নার্স ছিলেন। কোচবিহার শহরেই বক্সিবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় একটি বাড়ির দোতলায় ভাড়া থাকতেন তিনি। স্বামী রঞ্জিত রায় শিলিগুড়িতে গাড়ি চালান। মাঝে মাঝে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন তিনি। দম্পতির একমাত্র মেয়ে কালিংম্পয়ের একটি স্কুলে পড়াশোনা করে। তাকে সেখানেই রেখেছিলেন দম্পতি। ইদানিং ছন্দা ও রঞ্জিতের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলছিল। সেই জল গড়িয়েছিল থানা পর্যন্তও। কিন্তু স্বামীর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর করেননি ছন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ হাসপাতাল থেকে ফিরেছিলেন ছন্দা। সঙ্গে বাজারের ব্যাগ ছিল। সেই সময় বাড়িতে আসেন তাঁর স্বামী রঞ্জিত। রাত একটু বাড়তেই তাঁদের চিৎকার শুনতে পান স্থানীয়রা। তারপরই ঘরে আগুন জ্বলতে দেখেন। এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে দেখেন আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুরতে আসা এক মহিলা। ওই ব্যক্তির শরীরের আগুন লেগেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বাড়ির সামনে গেটের সামনে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় নার্স ছন্দাকে। তাঁকে বাঁচানো যায়নি। এদিকে আহত রঞ্জিতও ঘটনাস্থল থেকে বেশি দূর যেতে পারেননি। তাঁকেও ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর দেওয়া হয় দমকলে। আসে পুলিশও। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
বাড়ির মালিক দেবজিৎ বর্মা বলেন, "ছন্দা প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে ভাড়া থাকতেন। তাঁর স্বামী রঞ্জিতকে একটি গাড়ি কিনে দেন তিনি। সেটিরই ইএমআই নিয়ে ওদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। আরও কিছু ঝামেলা চলছিল। একবার ছন্দাকে সঙ্গে নিয়ে থানাতেও গিয়েছিলাম। তবে তিনি কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। ব্যাপারটা মিটে যায়। আজ বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান গিয়েছিলাম। পাশের বাড়ি থেকে আমাকে খবর দেওয়া হয়। পারিবারিক অশান্তির জেরে এই ঘটনা। বাকিটা পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।" আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুরতে আসা রুমা দত্ত বলেন, "চিৎকার শুনে বাড়ির বাইরে আসি। দেখি এক ব্যক্তি পালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর শরীরেও আগুন লেগেছিল। জামা খুলে পালিয়ে যান তিনি। মহিলা প্রচণ্ড চিৎকার করতে করতে বাড়ির সামনে পড়ে যান।" স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, "আমাদের এলাকায় এই রকম কাণ্ড কোনও দিন ঘটেনি। যদি মহিলাকে খুন করা হয়ে থাকে, তাহলে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক সাজ হোক।" দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
