তন্ময় মুখোপাধ্যায়: কার্তিক পূর্ণিমায় ভাগীরথীর দু’পারে আনন্দের রস। নবদ্বীপে এক দিনেই রাস শেষ। আর শান্তিপুরে রাস তিন দিনের। এখানে উৎসবের আসল মজা হল ভাঙারাস বা শোভাযাত্রায়। দুই শহরে বাড়ি ও বারোয়ারি মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার পুজো হয়েছে।
[বাংলাকে রাস উৎসবের পথ দেখিয়েছে শান্তিপুরের এই বাড়ি]
রাস উৎসব বুঝিয়ে দেয় বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। যত মত তত পথ। নবদ্বীপ থেকে শান্তিপুর। শ্রীকৃষ্ণের লীলা ঘিরে একাধিক দেব-দেবীর আরাধনা হয়। হরেক সব নাম। শুধু নবদ্বীপে প্রায় একশোটি নামে বিভিন্ন পুজো হয়। তার মধ্যে রয়েছে মহিষমর্দিনী, গণেশজননী, কালীমাতা, গঙ্গামাতা, যুগলমিলন, নটরাজ, অন্নপূর্ণা, চণ্ডীমাতা, বিন্ধ্যবাসিনী, ভারতমাতা, হরগৌরী, শিবপার্বতী, ভদ্রকালী, আনন্দময়ী, মহাপ্রভু, শ্যামাকালী, বিজয়মাতা এবং হনুমান।
নবদ্বীপে অজস্র মন্দির এবং মণ্ডপে পুজো হলেও এখানকার এলেনা কালী অন্যদের থেকে আলাদা। ভৃগুরামের হাতে ১৭৫৪ খ্রীষ্টাব্দে এই পুজোর সূচনা হয়। এই পুজো শুরু হলে নবদ্বীপে অন্যান্য পুজো শুরু হয়। নবদ্বীপের বেয়ারাপাড়া রোডে অবস্থিত এই প্রতিমার উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। এটি অলোকনাথ কালী নামেও পরিচিত।
শান্তিপুরে শ্রেষ্ঠ উৎসব রাস। এবার বাড়ির পুজোর পাশাপাশি বেশ কিছু সর্বজনীন পুজোর থিম ও প্রতিমা নজর কেড়েছে। তার মধ্যে অন্যতম থানার মোড় রাস কমিটি। তাদের ভাবনা কংস বধ। বড়গোস্বামী পাড়ার থিম চলো যাই পরীর দেশে। আগমেশ্বরী তলা ইয়ং স্টার্ফ এর নিবেদন নতুন বেশে পুতল দেশে। খাঁ পাড়ায় তৈরি হয়েছে কাশীনাথ ধাম। কামার পাড়ায় তালপাতার প্রতিমা ও প্যান্ডেল। লিচুবাগান চমক দিতে বানিয়েছে শামুক ও ঝিনুকের প্রতিমা। দর্শক টানতে নবমিলন সংঘের বাজি ভুতের দেশে। বৌবাজার তাদের মণ্ডপে তুলে ধরেছে ভোরের সকাল।
[শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলা কীভাবে সর্বজনের হল? উৎসবের মাহাত্ম্য কী?]
শান্তিপুরের রাসের অন্যতম আকর্ষণ শোভাযাত্রা। রাসের মধ্যেও তার তোড়জোড় চলছে। বেশ কিছু ক্লাব বা সংস্থা আছে যারা শোভাযাত্রাকে গুরুত্ব দেয়। তাদের মধ্যে রয়েছে বেজ পাড়া। যারা ফিল্মের দুনিয়া নিয়ে কাজ করেছে। ভারতমাতা দত্তপাড়া কলোনি, পাঁচমাথা, এবিসিডি ক্লাব, বিশুখাঁ পুকুর লেন, উড়িয়া গোস্বামী পাড়া বৈচিত্রপূর্ন শোভাযাত্রা নিয়ে ভাঙারাসে অংশগ্রহনের জন্য তৈরি।
ছবি: সৌমেন বিশ্বাস ও রণা ভট্টাচার্য
The post মণ্ডপ থেকে প্রতিমা, রাসযাত্রায় থিমেও জোর লড়াই appeared first on Sangbad Pratidin.
