সন্দেশখালির পর সুন্দরবন। এলাকা ঘিরল ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। সঙ্গে স্টেট র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স। এলাকা ঘিরে কড়া নজরদারি। চলল ভবনের ভিতরে অভিযান। 'বন্দি'দের উদ্ধার প্রক্রিয়া। অবশেষে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসেন জওয়ানরা।
না! কোনও জঙ্গি হামলা নয়। এই পরিস্থিতি তৈরি হলে কী করে উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হবে? কীভাবে 'বন্দি'-সহ স্থানীয়দের সুরক্ষিত রাখা হবে। চলল তাঁর মকড্রিল। এনসজি, এসটিএফস, স্টেট র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স, বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশের যৌথ মহড়া দেখল 'হতবাক' দ্বীপবাসী। উদ্ধার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মূলত সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিয়ে মকড্রিল হল।
এনএসজির কড়া নজরদারি। চলছে মহড়া। নিজস্ব চিত্র।
কিন্তু সুন্দরবন কেন? দেশ তো বটেই আন্তর্জাতিক পর্যটনক্ষেত্রে সুন্দরবনের গুরুত্ব আলাদা করে বলে দিতে হয় না। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এই অঞ্চলে কোনও সন্ত্রাসী হামলা ঘটলে কীভাবে, কতটা দ্রুত পদক্ষেপ করা যাবে, তা নিশ্চিত করতেই এই মকড্রিল। জঙ্গি বা হামলাকারীরা কোনও বাড়ির ভিতর যদি পর্যটক বা স্থানীয়দের আটক করে রাখে, সেক্ষেত্রে কী, কী করতে হবে। সেই প্রক্রিয়া ঝালিয়ে নিতেই মহড়ার।
মকড্রিলের অংশ হিসাবে ভবনের ভেতরে অভিযান, এলাকা ঘিরে ফেলা। 'বন্দি' সরিয়ে নেওয়া এবং পরিশেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলল। এই রকম আপাতকালীন পরিস্থিতি সব সংস্থার মধ্যে যাতে সন্বময়, প্রস্তুতি ঠিক থাকে তাও গুরুত্বপূর্ণ। সেই সংযোগবাড়াতেই এই মহড়া বলে জানানো হয়েছে।
মহড়া।
উল্লেখ্য, জেল বন্দি প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শেখ শাহাজাহানের এলাকা সন্দেশখালিতেও গতকাল শনিবার মহড়া চালিয়েছে এনএসজি। তারপর এ দিন রবিবার সুন্দরবনে। ওয়াকিবহল মহলের মত, গত কয়েকদিনে রাজ্যে একাধিক পাক এজেন্ট সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারপরই বদলের বাংলায় রাজ্যের নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখতে চায় না শুভেন্দু অধিকারী সরকার। এ হেন পরিস্থিতিতে সন্দেশখালির পর সুন্দরবনে এনএসজির মহড়া।
