shono
Advertisement
Biman Basu

'তিনি বৃদ্ধ হলেন', সিপিএমের বর্ধিত অধিবেশনে অনুপস্থিত থেকেও 'বনস্পতির ছায়া' বিমান বসু

অশীতিপর বিমান বসুর হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসেছে, আপাতত তিনি বিশ্রামে। তাই কল্যাণীর অধিবেশনে অনুপস্থিত।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 09:22 PM Aug 29, 2026Updated: 09:24 PM Aug 29, 2026

কলকাতা থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে রয়েছেন। তবুও না থেকেও তিনি আছেন। তাঁর অনুপস্থিতি প্রতি মুহূর্তে টের পাচ্ছেন কমরেডকুলের নেতারা। অভিভাবকের বকুনি নেই। নেই ভুল শুধরে দেওয়ার মানুষটা। তাই অধিবেশনে যোগ দিতে আসা সকলের মুখে ঘুরেফিরে আসছে একটাই নাম - বিমান বসু। পার্টির বৈঠক, সম্মেলন কিংবা সাংগঠনিক কর্মসূচি - দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সিপিএমের কর্মসূচিতে বিমান বসুর উপস্থিতি ছিল অবিচ্ছেদ্য। কিন্তু শনিবার কল্যাণীতে শুরু হওয়া পশ্চিমবঙ্গ সিপিএমের বর্ধিত রাজ্য কমিটির অধিবেশনে সেই পরিচিত মুখটি নেই। অস্ত্রোপচারের পর দিল্লির এইমসে চিকিৎসাধীন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান তথা প্রবীণ সিপিএম নেতা বিমান বসু।

Advertisement

পার্টির কোনও গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন বা বর্ধিত বৈঠকে বিমান বসুর অনুপস্থিতি নিছক একটি সাংগঠনিক অনুপস্থিতি নয়, এটি সিপিএমের একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিবর্তনেরও প্রতীক। বয়স ও শারীরিক কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা কমলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি বরাবরই আলাদা গুরুত্ব বহন করেছে। এবার কল্যাণীর বৈঠকে তাঁর চেয়ারটি খালি।

শনিবার থেকে কল্যাণীতে শুরু হয়েছে দু'দিন ব্যাপী সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন। বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক অবস্থান, নির্বাচনী ফলাফল এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক-সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছেন লাল পার্টির নেতারা। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময়ই দলের প্রবীণতম নেতাদের অন্যতম বিমান বসু রয়েছেন হাসপাতালের শয্যায়। সম্প্রতি দিল্লি যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিমান বসু। দিল্লি পৌঁছে তাঁকে এইমসে ভর্তি হতে হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁর হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়েছে। আপাতত তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে বিশ্রামে রয়েছেন।

কল্যাণীর এই বর্ধিত অধিবেশন ইতিহাসের পাতায় অন্য একটি কারণে চিহ্ন রেখে যেতে পারে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে বিমান বসুকে ছাড়াই সিপিএমের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যস্তরের অধিবেশন চলছে। সামনে রাজ্যে দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই সন্ধিক্ষণে দলের অন্যতম প্রবীণ স্তম্ভকে ছাড়াই আলোচনা করতে হচ্ছে সিপিএম নেতৃত্বকে।

বিমান বসুর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে সিপিএমের সম্মেলন ও সাংগঠনিক বৈঠকের সম্পর্ক প্রায় সাত দশকের। ১৯৫৮ সালে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হওয়ার পর ১৯৬৪ সালে সিপিএম গঠনের সময় থেকেই তিনি নতুন দলের সঙ্গে যুক্ত হন। ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে উঠে এসে পরবর্তীকালে রাজ্য কমিটি, কেন্দ্রীয় কমিটি এবং পলিটব্যুরোর সদস্য হয়েছেন। রাজ্য সম্পাদক এবং দীর্ঘদিন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে পার্টির কোনও গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন বা বর্ধিত বৈঠকে বিমান বসুর অনুপস্থিতি নিছক একটি সাংগঠনিক অনুপস্থিতি নয়, এটি সিপিএমের একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিবর্তনেরও প্রতীক। বয়স ও শারীরিক কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা কমলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি বরাবরই আলাদা গুরুত্ব বহন করেছে। এবার কল্যাণীর বৈঠকে তাঁর চেয়ারটি খালি।

কমরেড কুলের নেতারা অবশ্য তাঁর দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসার অপেক্ষায়। কিন্তু কল্যাণীর এই বর্ধিত অধিবেশন ইতিহাসের পাতায় অন্য একটি কারণে চিহ্ন রেখে যেতে পারে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে বিমান বসুকে ছাড়াই সিপিএমের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যস্তরের অধিবেশন চলছে। সামনে রাজ্যে দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই সন্ধিক্ষণে দলের অন্যতম প্রবীণ স্তম্ভকে ছাড়াই আলোচনা করতে হচ্ছে সিপিএম নেতৃত্বকে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement