এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের বাবা-মা। চতুর্থবারে ফের জন্ম নেয় কন্যাসন্তান। তাতেই সদ্যোজাতকে জীবিত অবস্থায় বস্তাবন্দী করে পুকুরে ফেলল বাবা-মা। জলাশয় থেকে সদ্যোজাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাল এলাকাবাসী। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুরে। এলাকাবাসীর তৎপরতায় শনাক্ত করা গিয়েছে অভিযুক্ত বাব-মাকে। তাঁদের গৃহবন্দী করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে আটক করেছে।
শান্তিপুর থানার নবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পূর্ব পরেশনাথপুর দাসপাড়ার বাসিন্দা রাম দাস ও কাকলি দাস। দম্পতির এক পুত্র ও দু'টি কন্যাসন্তান রয়েছে। কাকলি ফের গর্ভবতী হন। শুক্রবার ভোরে বাড়িতেই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। শিশুকন্যা হওয়ার কারণে সূর্য ওঠার আগেই সদ্যোজাতকে বস্তাবন্দি করে স্থানীয় পুকুরে ফেলে দেন অভিযুক্ত দম্পতি। পুকুর থেকে সদ্যোজাতকে উদ্ধার করেন দুই স্থানীয় বাসিন্দা। একরত্তিকে উদ্ধার করে প্রথমে পাঠানো হয় ফুলিয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সে বর্তমানে সেখানে আইসিইউতে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সে।
কে ফেল গেল সদ্যোজাতকে তা নিয়ে প্রথমে ধোঁয়াশা ছিল। তবে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় কাকলিদের উপর। তাঁদের বাড়িতে চড়াও হন প্রতিবেশীরা। দাবি, তখনই শিশুকন্যার বাবা রাম দাস স্বীকার করেন,তাঁর তিনটি সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পুত্রসন্তান ও দুই কন্যাসন্তান। ফের কন্যাসন্তান হওয়ার কারণে তিনি বাচ্চাটিকে পুকুরে ফেলে এসেছিলেন। অভিযুক্ত মা কাকলি দাস পুরোপুরি নিশ্চুপ। শান্তিপুর থানার পুলিশ অভিযুক্ত বাবা-মাকে থানায় নিয়ে গিয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা-মায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে এলাকাবাসী। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
