বারুইপুর কাণ্ডে সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য লাহেক আলির গ্রেপ্তারের নেপথ্যে স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, শুরু থেকেই এমনটাই দাবি করা হচ্ছে। তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তুলে সরব সিপিএমের বিভিন্ন সংগঠন। কিন্তু মিলল না জামিন। বারুইপুর গণপিটুনিতে ধৃত লাহেক আলিকে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। আগামী ২১ তারিখ ফের তাঁকে কোর্টে পেশ করা হবে।
বারুইপুর ধর্ষণ-খুন কাণ্ডের (Baruipur Incident) পর অভিযুক্ত সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ঘিরে সরগরম হয়ে ওঠে এলাকা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, স্রেফ সন্দেহের বশে খুন হওয়া যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল ‘নির্দোষ’। এনিয়ে তদন্ত চলছে। গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ওই গণপিটুনির ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে রবিবার রাতে বারুইপুরের খোদারবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন সিপিএম নেতা তথা ছাব্বিশের ভোটে বারুইপুর পশ্চিমের প্রার্থী লাহেক আলি (Lahek Ali)। তাঁর বিরুদ্ধে আগেই অবশ্য এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতে গ্রেপ্তারি। সোমবার আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লাহেক বললেন, ‘‘সব মিথ্যে অভিযোগ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চলছে। এভাবে প্রতিবাদের মুখ বন্ধ করা হচ্ছে।” আদালতে দীর্ঘক্ষণের সওয়াল-জবাব শেষে লাহেক আলিকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বারুইপুর আদালতের বিচারক।
উল্লেখ্য, লাহেকের গ্রেপ্তারি ও মামলা পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। দলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘যে মামলার কথা বলছে পুলিশ, বারুইপুরের সূর্যপুরে গণপিটুনিতে হত্যা, সেই ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর লাহেক ওখানে পৌঁছন। একটু তদন্ত করলে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই তা বোঝা যাবে। কিন্তু তদন্তের আগেই তো মুখ্যমন্ত্রী বলে দিচ্ছেন, ওখানে কে নির্দোষ, কে অভিযুক্ত। বিচারের আগে এসব হলে তো গণতন্ত্র থাকবে না।” এদিন আদালতের পথে লাহেক আলির গলাতেও শোনা গিয়েছিল একই অভিযোগের সুর।
