বীরভূমে (Birbhum) ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়িতে টাকার পাহাড়! ওই বাড়ি ঘিরে চলছে পুলিশের তল্লাশি। টাকা গুনতে বাড়ির ভিতর নিয়ে যাওয়া হয়েছে মেশিন, প্রিন্টার। এই বিষয়ে এখনই সম্পূর্ণ তথ্য দিতে চাইছে না পুলিশ-প্রশাসন। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জেলা পুলিশের আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে রয়েছেন। জেলার পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মনির মণ্ডল। তাঁর বাড়িতেই এই অভিযান চলছে বলে খবর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগেও সরকারি বাসচালক হিসেবে কাজ করতেন মনির মণ্ডল। সেই চাকরি ছেড়ে তিনি টুলুর ব্যবসায় যোগ দেন। 'বেআইনি' পাথর ও অন্যান্য ব্যবসায় টুলুর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতে থাকেন এই মনির। মহম্মদবাজার থানা এলাকার ডেউচা বাস স্ট্যান্ডের পাশেই কিছুদিনের মধ্যেই তৈরি হয়ে যায় প্রাসাদসম বাড়ি! জীবনযাত্রাও বদলে যায়!
বাড়ির ভিতর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ট্রাঙ্ক। নিজস্ব চিত্র
আজ, বুধবার ভোররাতে ওই বাড়িতেই হানা দেয় পুলিশ। গোটা বাড়ি ও এলাকা ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বাড়ির ভিতরে ঢুকে শুরু হল পুলিশি তল্লাশি। আলমারি থেকে থরে থরে টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে প্রাথমিক খবর। নোটের পাহাড়ে কত পরিমাণ টাকা আছে? সেই নিয়ে চর্চা শুরু হয়। সকালে টাকা গোনার পাঁচটি মেশিন, ২টো প্রিন্টার বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়াও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিশাল আকারের দুটি ট্রাঙ্ক। ওই বাড়ি থেকে প্রায় ২০ কোটির বেশি নগদ টাকা ও ১০ কেজির বেশি সোনা উদ্ধার হয়েছে! প্রাথমিকভাবে কানাঘুষো এমনই শোনা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেস আমলে বীরভূম জেলায় বেআইনি পাথর, বালি পাচারের ক্ষেত্রে বেতাজ বাদশা হয়ে উঠেছিলেন টুলু মণ্ডল! একাধিক অভিযোগ থাকলেও সেসময় শাসক দলের হাত সঙ্গে থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপই করত না বলে অভিযোগ। দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকা বেআইনি পাথর ব্যবসা থেকে রোজগার হত বলে খবর! রাজ্যে পালাবদলে পুলিশ পাচার রুখতে কড়া ভূমিকা নিয়েছে। বিজেপি সরকারের আমলে টুলুর ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর আগেও টুলুর একাধিক আস্তানায় হানা দিয়েছে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থারা। উদ্ধার হয়েছে নগদ অর্থ ও বহু নথি। এই টাকাও কি টুলুর? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
