সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: রেললাইনের উপর শায়িত অবস্থায় এক মহিলা-সহ দুই নাবালিকার দেহ। গভীর রাতে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মুরি-চাণ্ডিল শাখার সুইসা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেল লাইনে উপর অজ্ঞাত পরিচয়ের দেহগুলি উদ্ধার হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় জিআরপি। ইতিমধ্যে দেহগুলি উদ্ধার করে পুরুলিয়া গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠনো হয়েছে।
তবে কীভাবে এই ঘটনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে কীভাবে দেহগুলি সেখানে এলো তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এর পিছনে কোনও রহস্য আছে, এমনকী কেউ বা কারা দেহগুলি লাইনের ফেলে দিয়ে গিয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে রেল পুলিশ।
অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া তিনটি দেহের পরিচয় জানারও চেষ্টা হচ্ছে পুলিশের তরফে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। জিআরপির পাশাপাশি পুলিশের তরফেও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সম্ভবত এটি একটি খুনের ঘটনা। বাইরে থেকে খুন করে রেল লাইনের উপর সম্ভবত দেহগুলি ফেলে দিয়ে আসা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে পুলিশ কুকুরও। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এই স্টেশনের কাছেই উদ্ধার হয় দেহগুলি। নিজস্ব ছবি।
জানা গিয়েছে, দেহগুলি রেললাইনের উপর পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। একেবারে পাশাপাশি শায়িত অবস্থায় রয়েছে সেগুলি। আর তা দেখে পুলিশের অনুমান, সম্ভবত অন্য কোথাও খুন করে লাইনের উপর দেহগুলি ফেলে দিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত করছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
স্থানীয় এক ব্যক্তি দীপক কুইরি জানিয়েছেন, ''সুইসা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেল লাইনে উপর থেকে দেহগুলি উদ্ধার হয়''। এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্কে স্থানীয় মানুষজন। দীপক বলেন, ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকা, মাঝেমধ্যেই চুরি,ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ফলে এলাকায় পুলিশের নিরাপত্তা এবং নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দীপক।
