গাইঘাটার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডে (Barun Biswas Murder Case) নতুন করে তদন্তের দাবি। ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে নতুন করে তদন্তের দাবি তুলল তাঁর পরিবার। পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবি বরুণের হত্যাকাণ্ডে জড়িত রাজ্যের প্রাক্তনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক-সহ স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রুণের দাদা অসিত বিশ্বাস বনগাঁর পুলিশ সুপার ও বনগাঁ জিআরপি থানায় লিখিত ভাবে নতুন করে তদন্তের আবেদন জানালেন। অসিত বিশ্বাসের অভিযোগ, "রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক-সহ কয়েক জন তৃণমূল নেতা বরুণকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ষড়যন্ত্রকারীদের মামলায় যুক্ত করা হোক।"
সালটা ২০১২। ৫ জুলাই। গোবরডাঙা স্টেশনে দুষ্কৃতীদের গুলিতে মারা যান সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চের সম্পাদক ও শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। সেই মামলার তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। গ্রেপ্তার করা হয়, নয়জনকে। জেলে থাকাকালীন মারা যান একজন। বাকিরা আবার জামিনে মুক্ত। এই অবস্থায় তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ তুলছিলে পরিবার। বরুন বিশ্বাসের দিদি উর্মিলা দে বিশ্বাসের অভিযোগ, "যেখানে বরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন, তার কাছেই তৃণমূলের একটি কার্যালয় ছিল। সেখান থেকে কয়েক জন মানুষকে হুমকি দিয়েছিল যাতে কেউ বরুণকে উদ্ধার করতে না যায়। প্রায় চল্লিশ মিনিট পরে কয়েক জন পরিচিত ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করে গোবরডাঙা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।"
তিনি আরও দাবি করেছেন, মূল চক্রান্তকারীদের আড়াল করা হয়েছে। এমনকী সরকারি আইনজীবী তাঁদের সাহায্য করেনি। তাঁকে চাকরির টোপও দেওয়া হয়েছিল। তা না মানায় ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ তাঁর। উর্মিলা বলেন, "এই মামলাটি সিআইডির হাতে গেলেও তদন্তকারীরা কোনও দিন আমাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেনি। তৃণমূল সরকার সম্পূর্ণভাবে বরুণ খুনের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।"
বরুণের দাদা অসীতের দাবি, "ভাইয়ের মৃত্যুর পর আমার থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যে অভিযোগপত্র নিয়ে তদন্ত শুরু হয় সেই অভিযোগ পত্রটি আমার লেখা ছিল না। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বা অন্য তৃণমূল নেতাদের নামও উল্লেখ করা হয়নি।" পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলাটি বর্তমানে বনগাঁ আদালতে বিচারাধীন। অসীত বিশ্বাসের আবেদনপত্রটি সিআইডির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আসল চক্রান্তকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
