সাবিরুজ্জামান, লালবাগ: বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার নামে জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার দাবি উঠল তাঁর মৃত্যু দিবসে। সিরাজের জীবনের সঠিক মূল্যায়নে দাবিও তোলেন মুর্শিদাবাদের বিশিষ্টজনরা। সিরাজ-উদ-দৌলা স্মরণ সমিতির পক্ষ থেকে এই দাবি তোলা হয়।
[আরও পড়ুন: ক্লাস ভাগ নয়, চাপের মুখে সিদ্ধান্ত বদল মালদহের গিরিজাসুন্দরী বিদ্যাপীঠের]
বুধবার কবিতায়, গানে, আলোচনার মধ্য দিয়ে পালিত হল স্বাধীনতা প্রিয় বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার প্রয়াণ দিবস। বেশ কয়েক বছর যাবৎ সিরাজের মৃত্যু দিনকে শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা স্মরণ সমিতি। বুধবার ছিল সিরাজের ২৬৩ তম মৃত্যুদিন। এ দিন নবাবের সমাধিস্থল ভাগীরথী নদীর পশ্চিম পাড় অর্থাৎ লালবাগ শহরের ঠিক উলটো প্রান্তের খোশবাগ এলাকায় সাধারণ মানুষ এবং বেশ কিছু সংগঠনের সদস্য, বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত হয়ে তাঁদের প্রিয় নবাবকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। পদযাত্রার মাধ্যমে খোশবাগে পৌঁছিয়ে নবাবের সমাধিস্থলকে ফুলের মালা, ধুপ এবং মোমবাতিতে সাজিয়ে তোলেন ইতিহাসের গবেষক থেকে শুরু করে উপস্থিত জনতা। পরে বহরমপুর সাংবাদিক সংঘের সভাগৃহে বর্তমান পরিস্থিতিতে সিরাজ-উদ-দৌলার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
তবে সিরাজ-উদ-দৌলা স্মরণ সমিতি এই দিনটিকে তাঁর মৃত্যুদিন কিংবা প্রয়াণ দিবস বলতে নারাজ। বরং সিরাজকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম শহিদ বলে দাবি করেন তাঁরা। বুধবার খোশবাগে সমিতির সদস্যরা উপস্থিত হয়ে প্রথমে নবাবের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন। পরবর্তীতে এলাকার পড়ুয়ারা নবাবকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করে। চলে সংগীতের আসর এবং সব শেষে নবাবের জীবন ও মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
[আরও পড়ুন: ক্লাস ভাগ নয়, চাপের মুখে সিদ্ধান্ত বদল মালদহের গিরিজাসুন্দরী বিদ্যাপীঠের]
এদিন বিকেলে বহরমপুর সাংবাদিক সংঘের সভাকক্ষে বর্তমান পরিস্থিতিতে সিরাজ-উদ-দৌলার প্রসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড: সুকান্ত পাল এবং মহম্মদ জিন্নাতুল্লাহ। তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয় সিরাজের জীবনযাত্রা এবং মূল্যবোধ। মুলত সিরাজকে নিয়ে যে সব মুখরোচক গল্প রয়েছে তার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই বলে ওই দুই ইতিহাস গবেষক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন। এদিন দাবি তোলা হয় সিরাজের সঠিক মূল্যায়ন ও তাঁর যোগ্য মর্যাদা দেওয়া হোক। পরবর্তীতে সমিতির সম্পাদক বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, “শহিদ দিবসে আমরা দাবি তুলেছি, রাজ্য সরকার এই দিনটিতে ছুটি ঘোষণা করে সিরাজকে সম্মানিত করুক এবং সিরাজের নামে জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হোক।”
The post সিরাজ-উদ-দৌলার নামে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির দাবি মুর্শিদাবাদের বিশিষ্টজনদের appeared first on Sangbad Pratidin.
