নিজস্ব সংবাদদাতা: ভর সন্ধ্যায় থানায় হাজির স্ত্রী। পুলিশের কাছে তিনি অভিযোগ জানাতে চান স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করতে চান ওই মহিলা।
এ পর্যন্ত পড়ে মনে হতেই পারে, এ আর নতুন কী! এমন খবর সংবাদমাধ্যমে হামেশাই দেখা যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী দু’জনেই পদস্থ সরকারি আধিকারিক। স্বামী শঙ্খশুভ্র দে এখন বাঁকুড়ার হিরাবাঁধের বিডিও-র দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। আর স্ত্রী পুরুলিয়ায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। ফলে এহেন ‘হাই প্রোফাইল’ দম্পতি বধূ নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংবাদ শিরোনামে চলে এলে হইচই তো হবেই। তা হয়েওছে। দুই জেলার প্রশাসনিক মহলেও জল্পনা ছড়িয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় মৌলি সান্যাল নামে ওই মহিলা বাঁকুড়ার হিরাবাঁধ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। অন্যদিকে এ নিয়ে কোনও কথা বলতে চাননি অভিযোগকারিণী মৌলি সান্যাল। অন্যদিকে শঙ্খশুভ্রবাবুও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
[OMG! প্রেমিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে কেন আগ্রহ নেই আয়ুষ্মানের?]
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালের আগস্টে হিরাবাঁধের বিডিওর দায়িত্ব নেন শঙ্খশুভ্র দে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বাসিন্দা মৌলি সান্যালের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বর্তমানে শঙ্খশুভ্রবাবু থাকেন হিরাবাঁধে। আর মৌলিদেবী থাকেন পুরুলিয়ায়। তিনি সেখানে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে কর্মরত। মাঝে মাঝে তিনি হিরাবাঁধে আসতেন বলে জানা গিয়েছে। আর শঙ্খশুভ্রবাবুর বাবা বিদূর্য দে ও মা রীতা দে থাকেন তাঁদের হুগলির ব্যান্ডেলের বাড়িতে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সন্ধ্যায় হিরাবাঁধ থানায় হাজির হন মউলিদেবী। সেখানে স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের কাছে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করতেন। অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি সামনে আসার পরই হইচই শুরু হয়ে যায়। প্রশাসন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার এদিন বিষয়টি দু’জনের মধ্যে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দফতরের প্রশাসনিক আধিকারিকরাও হিরাবাঁধ যান। কিন্তু অনেক বুঝিয়েও কোনও কাজ হয়নি। তবে প্রকাশ্যে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি মৌলিদেবী। তিনি বলেন, “এটা আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এই বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে কিছুই বলব না।” অন্যদিকে পুরো ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন হিরাবাঁধের বিডিও শঙ্খশুভ্র দে। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্যি নয়। তবে এই বিষয়ে এক্ষুনি এর বেশি কিছুই বলব না।” যদিও বেশ কিছুদিন ধরেই দু’জনের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাও জানাতে পারেনি জেলা প্রশাসন। তাছাড়া এই বিষয়ে বাঁকুড়ার জেলাশাসক মৌমিতা বসু গোদারাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
[দীর্ঘদিন মাথার পরচুলা না খোলায় জানেন কী হল এই যুবকের?]
