২ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মধ্য কলকাতার একটি বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ নম্বর ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞাপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিন ধর্মতলা চত্বরে একটি বিস্তীর্ণ এলাকায় ৫ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ থাকবে। ওই ৬০ দিন কোনও মিছিল, সভা, ধরনা, বিক্ষোভ কর্মসূচি করা যাবে না। তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে দড়ি টানাটানির পর্বেই একুশের সমাবেশ কার্যত ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনাই দেখছিল রাজনৈতিক মহল। তবে এদিন দুর্গাপুরে দাঁড়িয়ে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন (Dola Sen)। বললেন, "৩৩ বছরের মতোই এবারও শহিদ তর্পন হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে।" প্রয়োজনে থানায় যাওয়ার হুঁশিয়ারি তৃণমূল সাংসদের।
আগামী একুশে জুলাই তৃণমূলের শহিদ সমাবেশ (21 July TMC Shahid Diwas) পালন নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হচ্ছে। দুই শিবিরই নিজেদের আসল দাবি করে পুলিশের কাছে অনুমতি পত্র পাঠিয়েছে ইতিমধ্যেই। তবে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে মূলত যে জায়গায় একুশের সমাবেশের মঞ্চ বাঁধা হচ্ছে, ধর্মতলার সেই চত্বরেই আগামিকাল থেকে ১৬৩ ধারা জারি করার কথা ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু সেই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করেই তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনের বক্তব্য, "আইন, বিচার ব্যবস্থা ও পুলিশ প্রশাসনের ওপর ভরসা আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন গত ৩৩ বছর ধরে ২১শে জুলাইয়ের কর্মসূচি করে আসছেন, তেমনই এবছরও করতে পারবেন। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে থানায় যাব।" পাশাপাশি ধর্মতলায় ১৬৩ ধারা জারি নিয়ে সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা বলে সরকারের 'তুঘলকি শাসন' বলে কটাক্ষ করেন দোলা।
প্রসঙ্গত, উত্তর কলকাতায় একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ৫ জন লোক হলেও ধর্মতলায় যাব। তারপর পুলিশের কাছে অনুমতিপত্র যায় কালীঘাট তৃণমূলের তরফে থেকে। মঞ্চ বাঁধার জন্য রাস্তা মাপজোক করে কুণাল, দোলা, বৈশ্বানরদের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় মামলাও রুজু হয়। মঙ্গলবার ধর্মতলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ১৬৩ ধারা জারি থাকবে বলে সরকারি ঘোষণার পরেও নাছোড়বান্দা 'কালীঘাট তৃণমূল'!
দুর্গাপুরে দোলা সেনকে কালো পতাকা। ছবি: সনাতন গরাই।
উল্লেখ্য, এদিন ডক্টরস ডে উপলক্ষে রক্তদান শিবির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুর্গাপুরে যান তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথেই তাঁকে কালো পতাকা দেখান স্থানীয় মানুষ ও বিজেপি সমর্থকরা। 'গো ব্যাক' স্লোগানও ওঠে। তারপরেই বিজেপি সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে একুশের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন দোলা। এখন দেখার ছাব্বিশের নির্বাচনের ভোটব্যাঙ্কে মানুষ যাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছে, সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে তার ছাব্বিশের 'একুশ-উৎসব' পালন করতে কতখানি সফল হন?
