shono
Advertisement

‘বিজয়ার চিঠি’ লেখা প্রতিযোগিতায় শিশু মনে রঙের আলপনা

শিশু মনের স্বচ্ছতা দেখে অবাক বিচারকরা। The post ‘বিজয়ার চিঠি’ লেখা প্রতিযোগিতায় শিশু মনে রঙের আলপনা appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 07:58 PM Nov 04, 2017Updated: 05:34 AM Nov 05, 2017

নন্দন দত্ত, সিউড়ি: ‘বাবা আপনি আমার শুভ বিজয়ার সালাম নেবেন’। পুজো শেষে বাবাকে চিঠি লিখল মহুলার আরিফ শেখ। পাইকপাড়ার রিক্তা তার দাদুকে লিখল পুজোয় এবার তারা ‘মটকা খেয়েছে। ফুচকা খেয়েছে। বৃষ্টির মাঝেও গ্রামে মেলা বসেছিল’। মহুরাপুরের বিধান দাস পিসেমশাইকে লিখেছে ‘বিসর্জনে তারা বলো দুগ্গা মাঈকি’ বলে নাচ করেছে। আবার কলিঠা গ্রামের সাকিল আহমেদ লিখছে ‘পুজোয় তারা কলকাতার চিড়িয়াখানায় ঘুরেছে, মেট্রো ট্রেনে চেপেছে। তার মজাই আলাদা’। এমনই কয়েকশো চিঠি জমা পড়েছে বীরভূম জেলা প্রাথমিক সংসদে। সৌজন্যে ‘বিজয়ার চিঠি’ লেখার নির্দেশ।

Advertisement

[জীবন বাজি রেখে কিং কোবরার ছোবল থেকে পড়ুয়াদের বাঁচালেন এই শিক্ষক]

বিলুপ্তপ্রায় এমনই এক বিষয়কে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নিয়েছিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের যুগে চিঠি লেখা  এবং তা নিয়ে আকুতি ফুটে উঠল প্রাথমিকের খুদে পড়ুয়াদের মনে। যে চিঠি বহু স্মৃতিও ফিরিয়ে আনল। জেলা শিক্ষা সংসদের তরফে বিজয়ার পর আত্মীয়, বন্ধু-স্বজনকে, গুরুজনদের প্রণাম বা শুভকামনা জানিয়ে স্কুলে বসেই পঁচাত্তর শব্দের মধ্যে চিঠি লেখার কথা বলা হয়। বীরভূম জেলার ৩২টি চক্রের মধ্যে ১৫ টি চক্রের চিঠি এসে জমা পড়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদে। প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান রাজা ঘোষ বলেন, “সেই চিঠি থেকে সেরা চিঠি বেছে নেবে নির্দিষ্ট কমিটি। সেরা চিঠির লেখককে পুরস্কারের পাশাপাশি সেই চিঠি নিয়ে সংকলন করা হবে।”

[শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলা কীভাবে সর্বজনের হল? উৎসবের মাহাত্ম্য কী?]

“বিজয়ার চিঠি” বাছতে গিয়ে শিশু মনের স্বচ্ছতা দেখে অবাক হচ্ছেন বিচারকরা। তাঁরা জানান আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল একটা আবহমান সংস্কৃতিকে ধরে রাখা। যেটা বাঙালির নিজস্বতা। দ্বিতীয়ত শিক্ষার গুণগত মান কি তা দেখার। শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান রাজা ঘোষের সংযোজন, “যে ছেলে বিজয়ার চিঠিতে বাবাকে বিজয়ার সালাম জানায় সেটাই তো বাংলার সংস্কৃতি। আমরা শুধু চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিকে চিঠি লিখতে বলেছিলাম। তাতে তাদের হাতের লেখা, বানান, তাদের বাক্য গঠন সবই নজরে রাখছি।” চতুর্থ শ্রেণির উৎসব তার বাবাকে পুজোয় না পাওয়ার কথা লিখেছে চিঠিতে। আবার মাম্পি খাতুন বিজয়া থেকে তার মহরমের অনুভূতির কথা জানিয়েছে বন্ধুকে। তবে অনেকের চিঠিতে উঠে এসেছে পুজোয় বৃষ্টির কথা। বর্ষণের জন্য কীভাবে আনন্দ মাটি হয়েছে তা কলমে তুলে ধরেছে কচিকাঁচারা। এরই মাঝে কেউ লিখেছে সরস্বতী মাতা সহায়। কেউ দুর্গাকে স্মরণ করেছে। তবে রাজা ঘোষের কথায় চিঠি থেকে শিশু মনে যে সামাজিকতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে তাতে আমাদের বিশ্বাস সঠিক পথেই বাংলার প্রাথমিক শিক্ষা এগোচ্ছে।

The post ‘বিজয়ার চিঠি’ লেখা প্রতিযোগিতায় শিশু মনে রঙের আলপনা appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার