সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: কোভ্যাক্সিনের (Covaxin) দ্বিতীয় ডোজ পেলেন কোভিডে মৃত প্রৌঢ়! কথাটা শুনতে অবাস্তব ঠেকলেও এটাই যেন ঘোর বাস্তব। এমন ঘটনাই ঘটেছে পুরুলিয়ার কাশীপুরে। কেন এমন ভুল হল, পুরুলিয়া জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে। পুরুলিয়ার উপ মুখ্য জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক (তিন) বুদ্ধদেব মণ্ডল বলেন, “বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে।”
৫৫ বছরের ওই প্রৌঢ় কাশীপুরের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল তিনি কোভ্যাক্সিনের প্রথম ডোজ নেন। ওই মাসের শেষের দিকে তিনি কোভিডে আক্রান্ত হন। জ্বর, সর্দি, কাশির মতো মৃদু উপসর্গ থাকায় তাঁকে কাশীপুরের কল্লোলি গ্রামীণ হাসপাতালে ভরতি করা হয়। ওই প্রৌঢ়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে গত ২৯ এপ্রিল বাঁকুড়ার একটি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। ২ মে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় প্রৌঢ়ের।
[আরও পড়ুন: অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে বিয়েতে ‘না’, কাটোয়া গুলি কাণ্ডে গ্রেপ্তার নাবালিকার প্রেমিকও]
এদিকে, গত ২৮ নভেম্বর ওই মৃত প্রৌঢ়ের মোবাইল নম্বরে একটি মেসেজ আসে। জানা যায় তাকে কোভ্যাক্সিনের দ্বিতীয় টিকা দেওয়া হয়েছে। এমন মেসেজ দেখে হতবাক হয়ে যান তার স্ত্রী। যেহেতু কোভিড (Covid-19) আক্রান্ত হওয়ায় স্বামী মারা যান তাই তার দেহ মেলেনি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ থেকে কোভ্যাক্সিনের দ্বিতীয় ডোজের মেসেজ আসায় সেই প্রশ্ন মনে ঘুরপাক খেতে থাকে স্ত্রীর। তবে কি তাঁর স্বামী বেঁচে রয়েছেন? মাথার মধ্যে এমন কথা অবিরাম চলতে থাকায় সেই কথা বলে ফেলেন আত্মীয়–স্বজনদেরকেও। ওই মেসেজ পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন স্ত্রী। এমন মেসেজে অবাক পড়শি থেকে ওই এলাকার মানুষজন সকলেই।
এই ঘটনাটি নজরে এসেছে পুরুলিয়া (Purulia) জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের। ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে বলেই জানান পুরুলিয়ার উপ মুখ্য জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক (তিন) বুদ্ধদেব মণ্ডল।
