নিম্নচাপের জেরে ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন হাওড়া পুরসভার একাধিক এলাকা। পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় রাস্তায় নামলেন পুরসভার পদস্থ ইঞ্জিনিয়াররা। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেন সাফাই কর্মীরা। শুধু তাই নয়, জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না হয়, সেদিকেও বাড়তি নজর দেওয়া হয়। বিপর্যস্ত এলাকার বেশ কিছু রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তৃণমূল আমলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বানভাসী থাকত হাওড়ার বহু ওয়ার্ড। জল নামাতে তেমন কোনও উদ্যোগই নেওয়া হত না বলে অভিযোগ। এবার বিজেপি শাসনে হাওড়া শহরের জল নামাতে সরকারিভাবে দ্রুত পদক্ষেপ করা হল। এমনই জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষজন।
টানা বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়ে হাওড়া পুরসভার ৫০টির মধ্যে কমপক্ষে ২৩টি ওয়ার্ড। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সব থেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১ থেকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড। ওই ওয়ার্ডগুলির অলিগলি বড় রাস্তায় ৫ থেকে ৮ ইঞ্চি জল জমে যায়। জল ঢুকে যায় বহু বাড়িতে। জিটি রোড, বেনারস রোড, পঞ্চাননতলা রোড, নেতাজি সুভাষ রোড-সহ হাওড়ার সব ক’টি বড় রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় তীব্র জানজটের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে উত্তর হাওড়ার নস্করপাড়া রোড, রামরাজাতলার রামচরণ শেঠ রোড, লিলুয়ার দাসপাড়ার মতো এলাকা।
জলমগ্ন মধ্য হাওড়া। নিজস্ব চিত্র
জলযন্ত্রণা দূর করতে দ্রুত ময়দানে নামেন ইঞ্জিনিয়ার-সাফাই কর্মীরা। দিনভর তৎপর ছিলেন পুর আধিকারিকরা। হাওড়া পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কীভাবে জমা জল সরানো যায় তা পরিদর্শন করেন। পদস্থ ইঞ্জিনিয়াররা সাফাই বিভাগের কর্মীদের নিয়ে গিয়ে জমা জল বার করেন। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে লিলুয়ার রানি ঝিলের মতো বড় জলাশয় থেকে জল উপচে শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্লাবিত করে দেয়। জমা জল সরাতে পুরসভার তরফে এদিন অনেক এলাকার গালপিট খুলে দেওয়া হয়। শিবপুরের কাজিপাড়া কিংবা উত্তর হাওড়ার নস্করপাড়া রোডের গালপিট খুলে দেওয়া হয়। যাতে জমা জল দ্রুত ম্যানহোলের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে যায়। খুলে দেওয়া হয় হাওড়া পুরসভা এলাকার ৫টি লকগেট। যেখান দিয়ে জমা জল বেরিয়ে গঙ্গায় পড়ে।
আজ, সোমবার ও আগামী কাল, মঙ্গলবার দু’দিন নিকাশি বিভাগের আধিকারিক ও কর্মীদের ছুটি বাতিল হয়েছে। জলমগ্ন শহরে হাওড়া পুরসভার সরবরাহকারী পানীয় জলের যাতে কোনওভাবে ঘাটতি না হয়, সেই দিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া জমা জলের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যাতে কোনও ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য হাওড়া পুরসভার তরফে সিইএসসির সঙ্গে কথা বলে শহরের বেশ কিছু রাস্তার ল্যাম্প পোস্ট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, তৃণমূল জমানায় হাওড়ায় রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের খোলা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এবার যাতে তেমন কিছু না হয়, সেজন্য কড়া নজরদারি রয়েছে। এদিন রাত পর্যন্ত বহু এলাকাতেই রাস্তার জল নেমে গিয়েছে। অন্যান্য জায়গার জমা জলও দ্রুত নামছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।
