দুর্গাপুরে মর্মান্তিক ঘটনা। হাসপাতাল থেকে ছুটি হয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবারই। কিন্তু স্বাস্থ্যবিমায় গন্ডগোল থাকায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়নি রোগীকে। রবিবার সকালে মৃত্যু হয় ওই রোগীর। পরিবারের অভিযোগ, রোগী যে ঘরে ভর্তি ছিলেন, সেখানে অতিরিক্ত জীবানুনাশক স্প্রে করার পর থেকেই অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। রবিবার রোগীর মৃত্যু হতেই ক্ষোভ ফেটে পড়ে পরিবার। দুর্গাপুরে বেসরকারি হাসপাতালে উত্তেজনা।
চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। মৃতের নাম রাজকুমার মণ্ডল (৫৮)। তিনি দুর্গাপুরের বেনাচিতির বাসিন্দা।পরিবারের অভিযোগ, চলতি মাসের ২৩ তারিখ চিকিৎসক ছুটি লিখে দেওয়ার পরেও স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত সমস্যার অজুহাতে রাজকুমার মণ্ডলকে হাসপাতাল থেকে ছাড়েনি কর্তৃপক্ষ। এরপর হঠাৎ হাসপাতালের তরফে জানানো হয়, রোগীর কক্ষে জীবানুনাশক ঝাঁঝালো স্প্রে করার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তার দু'দিন পর রবিবার মৃত্যু হয় রোগীর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষুব্ধ পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়রা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, চিকিৎসায় চরম গাফিলতি, অবহেলা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই রাজকুমার মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা। মৃতের মেয়ে কবিতা চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, "ছুটি লিখে দেওয়ার পরও জোর করে বাবাকে হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছিল। এরপর রুমে ঝাঁঝালো স্প্রে করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ গাফিলতির জন্যই আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কঠোর শাস্তি চাই। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।" অন্যদিকে, হাসপাতালের ডিজিএম (অপারেশন) শিল্পা স্বর বলেন, "আমরা রোগীর পরিবারের সদস্যদের ময়নাতদন্ত করানোর অনুরোধ করেছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।" ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
