মুর্শিদাবাদের সেই অভিশপ্ত রেলগেট পরিদর্শনে গেল রাজ্য ফরেনসিক বিভাগ। ঘুরে দেখলেন গোবিন্দপুর রেলগেটের দুর্ঘটনাস্থল। শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান বিভাগের আধিকারিকরা। দলে ছিলেন ফরেনসিক বিভাগের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ সি সরকার। সরেজমিনে সব কিছু খতিয়ে দেখেন তাঁরা। কথা বলেন রেলের আধিকারিকদের সঙ্গেও।
এ দিন ফরেন্সিক বিভাগের আধিকারিকরা রেলের আধিকারিকদের কাছে জানতে চায় এই রেলের গেট কোন টাইপের? গেট রেলের আধিকারিকরা জানান, গেটটি নন ইন্টারলকিং সি টাইপ গেট। এ ছাড়াও এই গেট বন্ধের নির্দেশ কিভাবে আসে? কী ভাবে এই রেলগেট কাজ করে? তখন রেলের এক আধিকারিক জানান, প্রাইভেট নাম্বর দিয়ে জানানো হয় লাইন ক্লিয়ারের কথা। লেজার ডিসটেন্স মাপার যন্ত্র দিয়ে একাধিক পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়াও দুর্ঘটনাস্থলে বেশ কিছু নমুনা খতিয়ে দেখেন। এরপর সেখান থেকে চলে যায় আজিমগঞ্জ স্টেশনেতর কাছে। সেখানে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পুলকারের পরিস্থিতি ক্ষতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, কাটোয়া আজিমগঞ্জ শাখায় রেল লাইনের বহরমপুর থানার গোবিন্দপুর এলাকায় রেলগেটে মধ্যে একটি পুলকারে ধাক্কা মারে ট্রেন। ঘটনায় মৃত্যু হয় চার পড়ুয়া ও এক সাইকেল আরোহীর। ঘটনায় গুরুতর আহত আরও তিন পড়ুয়া এবং ওই পুলকারের চালক। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পরই মৃত এবং আহতদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেপ্তারেও নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ''ফুলের মতো ছোট ছোট ছেলেমেয়ে প্রাণ হারিয়েছে। কিছু বলার মতো ভাষা নেই। অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা।'' শুধু তাই নয়, 'ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ' বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর মৃত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি আশ্বাস দেন দোষীদের করা শাস্তি হবে ও দ্রুত তদন্ত হবে। এবার ঘটনাস্থলে গেলেন ফরেন্সিক বিভাগের আধিকারিকরা।
