পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন স্বামী! সেই বিষয় জেনে ফেলেছিলেন স্ত্রী। দু'জনের মধ্যে সেই বিষয়ে অশান্তিও হয়েছিল বলে খবর। শেষপর্যন্ত অন্তঃসত্ত্বা ওই গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতার স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে। মৃতার নাম আফসানা খাতুন। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডি থানার উত্তর উদয়পুর এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার হালিমপুরের বাসিন্দা মকবুল শেখের মেয়ে আফসানা খাতুন। ২০২৪ সালে তাঁর বিয়ে হয় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার উত্তর উদয়পুরের আজাহারুল হকের সঙ্গে। অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই আজাহারুল পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই কথা জেনে ফেলেছিলেন বছর ২১ বয়সের আফসানা। যা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিত্য অশান্তি দেখা দিত।
এর মধ্যেই জানা যায় আফসানা অন্তঃসত্ত্বা। কিন্তু তারপরও আজাহারুল ওই পরকীয়া থেকে বেরিয়ে আসেননি বলে মৃতার বাপেরবাড়ির তরফে অভিযোগ। দাম্পত্যে তৃতীয়জনের উপস্থিতি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগেই ছিল! এরই মধ্যে সোমবার রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে আফসানা খাতুনের গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মঙ্গলবার পুলিশ মৃতদেহ বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। খবর দেওয়া হয় মৃতার বাপেরবাড়িতে। আফসানার শ্বশুরবাড়ির দাবি, তিনি 'আত্মহত্যা' করেছেন। অন্যদিকে মৃতার বাপেরবাড়ির তরফে অভিযোগ, মেয়েকে খুন করা হয়েছে। মৃত গৃহবধূর বাবা মকবুল শেখ বলেন, "মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা। কিছুদিন আগে অন্য এক মহিলাকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল আজাহারুল। আবার বাড়িতে ফিরে এসে অশান্তি শুরু করে। আমার মেয়েকে সরিয়ে দিতে গলা টিপে খুন করে ঝুলিয়েছে আজাহারুল। ওর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"
গতকাল রাতে কুশমন্ডি থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার বাপেরবাড়ির লোকজন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতার স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের আজ বুধবার গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
