বরকে ছেড়ে নন্দাইয়ের সঙ্গে লিভ-ইন শুরু করেছিলেন বধূ। কিন্তু সম্পর্কে মিষ্টতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। যার পরিণতি হল ভয়ংকর। অভিযোগ, গলায় ফাঁস দিয়েই আত্মঘাতী হন বধূ। এরপরই প্রমাণ লোপাটে প্রেমিক দেহটি বাইপাসের ধারে একটি জলাজমির পাশে ফেলে আসে বলে খবর। তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত দিন কয়েকআগে। গত সোমবার ফলতা (Falta) থানার ফতেপুর বাইপাস এর কাছে রামনগর পোলের ধারে একটি জলা জমির পাশ থেকে এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ দেহ উদ্ধার করতে গিয়ে মৃতার অন্তর্বাসের ভিতর একটি সুইসাইড নোট পায়। তাতে লেখা ছিল, মৃত্যুর জন্য দায়ী মহিলার স্বামী ও বাবা-মা। তার ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। উঠে আসে প্রেমিক স্বরূপ ভান্ডারীর নাম। জানা যায়, মৃতার নাম সুপ্রিয়া মণ্ডল। তিনি ফলতা (Falta) থানার দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর দেবীপুরের বাসিন্দা। বিয়ে হয়েছিল দোস্তিপুরের বাসিন্দা প্রসেনজিতের সঙ্গে। কিন্তু সেই দাম্পত্য সুখের হয়নি। অভিযোগ, পরবর্তীতে নন্দাই স্বরূপ ভান্ডারীর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মহিলা। একপর্যায়ে প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছাড়েন তিনি।
প্রেমিকার দেহ লোপাটে অভিযুক্ত স্বরূপ ভান্ডারী।
জানা গিয়েছে, স্বরূপের সঙ্গে বেহালার একটি ভাড়াবাড়িতে লিভ ইন করতে শুরু করেন সুপ্রিয়া। এরপর থেকেই অশান্তি শুরু হয় যুগলের মধ্যে। গত রবিবার রাতে স্বরূপের বধূর অশান্তি চরমে ওঠে। তার জেরেই নাকি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন সুপ্রিয়া। পুলিশ সূত্রে খবর, এতেই ভয় পেয়ে যান স্বরূপ। কী করবেন বুঝে উঠতে না পেরে মা-বাবাকে খবর দেন। এরপর পরিকল্পনামাফিক নিজের মোটরবাইকে করে মৃতদেহ জলাজমির পাশে ফেলে আসে যুবক। জানা গিয়েছে, ওই সুইসাইড নোটটি আদতে লিখেছিলেন স্বরূপ। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হল না। প্রমাণ লোপাট ও মৃতদেহ গায়েবের চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ স্বরূপকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর মা-বাবার খোঁজ চলছে।
