সাতসকালে জোড়া 'খুন' নদিয়ার রানাঘাটে। বৃদ্ধ শ্বশুর কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করলেন পুত্রবধূ ও পুত্রবধূর মাকে! পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে বৃদ্ধ অনন্ত বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে। মৃত দু'জনের নাম শিল্পা বিশ্বাস ও স্বপ্না মণ্ডল। পুত্রবধূ ও বেয়ানকে খুনের পর ছেলে পতিতপাবন বিশ্বাসকে ওই বৃদ্ধ বলেন, "তোর পথের কাঁটা সরিয়ে দিয়েছি।" হাড়হিম এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে প্রতিবেশীদের মধ্যেও।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই পরিবারের বাড়ি রানাঘাট থানার হবিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আশুতোষপুর গ্রামে। ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ অনন্ত বিশ্বাসের স্ত্রী দিন কয়েক আগে মারা গিয়েছেন। শ্রাদ্ধের কাজকর্ম সবে মিটেছে। ওই বাড়িতেই ছিলেন ছেলের শাশুড়ি স্বপ্না মণ্ডল। শিল্পা ও স্বপ্না এদিন সকালে ঘুমোচ্ছিলেন। পতিতপাবন ফুল বিক্রি করতে বাজারে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। সেসময় বাড়িতে থাকা একটি কুড়ুল নিয়ে ওই ঘরে ঢুকেছিলেন! পুত্রবধূ ও বেয়ানকে কুড়ুল দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে 'খুন' করেন বৃদ্ধ।
কিন্তু কেন এই খুন? পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে অনন্ত বিশ্বাসের স্ত্রী মারা যান। স্ত্রীর শ্রাদ্ধের কাজের সময় ছেলে পতিতপবন বিশ্বাসের শাশুড়ি স্বপ্না ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই অভিযুক্ত অনন্ত বিশ্বাস সন্দেহ করতে থাকেন, বউমা ও বেয়ান 'তুকতাক' বা 'কালাজাদু' করে সম্পত্তি দখল করতে চাইছেন! সেই নিয়ে ওই পরিবারে অশান্তিও হয়েছিল বলে খবর। সেই সন্দেহের বশেই এদিন সকালে ওই বৃদ্ধ দু'জনকে কুপিয়ে খুন করেন বলে প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের অনুমান।
ছেলে বাড়ি না থাকার সুযোগে এই খুন হয়েছে বলে ধারণা প্রতিবেশীদের। এলাকাবাসীর দাবি, ভোররাতে ওই বাড়িতে চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা গিয়েছিল। কিন্তু পরে আর কোনও শব্দ না পেয়ে কেউ গুরুত্ব দেননি। ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ পতিতপাবন বাড়ি ফেরেন। ঘরে ঢুকে দেখেন ওই ভয়ানক দৃশ্য। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মধ্যে পড়েছিলেন স্ত্রী ও শাশুড়ি। কী করে এই ঘটনা ঘটল? বাবাকে ছেলে প্রশ্ন করেন। তার জবাবে অনন্ত নাকি বলেন, “তোর পথের কাঁটা সরিয়ে দিয়েছি।” পতিতপাবনের আর্ত চিৎকার, কান্নাকাটি শুনে প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে ছুটে যান। ঘরের মধ্যে ওই রক্তারক্তি কাণ্ড দেখে আতঙ্কিত হন প্রতিবেশীরাও।
খবর দেওয়া হয় রানাঘাট থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। খুনে ব্যবহৃত ওই কুড়ুলটি উদ্ধার হয়েছে। ঘর থেকে নমুনাও সংগ্রহও করা হয়েছে। বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন প্রতিবেশীরা।
