তারাপীঠের ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। এরমধ্যে ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এবার রামপুরহাট শহরের একটি বেসরকারি হোটেলে আগুন। যা নিয়ে শনিবার রাতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রামপুরহাট। সানঘাটা পাড়া মোড়ে অবস্থিত হোটেল তাজ প্যালেসের রান্নাঘরের চিমনি থেকে আচমকাই দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় স্বভাবতই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় মানুষজন। তবে ঘটনার সময়ে হোটেলে কোনও আবাসিক ছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা খগেন্দ্র মণ্ডল জানান, কয়েকদিন আগেই তারাপীঠে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনার পর রামপুরহাটে হোটেলের চিমনি থেকে আগুন বের হতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে চিমনি থেকে হালকা ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধোঁয়ার পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং আচমকাই চিমনির মুখ দিয়ে আগুনের শিখা বের হতে শুরু করে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি দমকল বিভাগে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে একটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন। দমকলকর্মী ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এলাকার মানুষের কথায়, সময়মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনের আতঙ্কে হোটেল ও সংলগ্ন এলাকায় হইচই পড়ে যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে বহু মানুষ জড়ো হন। বিশেষ করে হোটেলটি বসতবাড়ির একেবারে লাগোয়া হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী শেখ ওরফে ভবানীর অভিযোগ, তাঁর বাড়ির ঠিক উপরেই রয়েছে ওই হোটেলের চিমনি। তিনি জানান, প্রথমে চিমনি থেকে সামান্য ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছিল। আচমকাই প্রচণ্ড ধোঁয়া এবং আগুন বের হতে শুরু করে। তাঁর আশঙ্কা, সময়মতো আগুন নজরে না এলে তা তাঁর বাড়িতে ছড়িয়ে পড়তে পারত এবং বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারত। তাঁর আরও অভিযোগ, চিমনির মুখ উপরের দিকে উঁচু করে দেওয়ার জন্য হোটেল মালিককে একাধিকবার বলা হলেও সেই বিষয়ে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
অপর স্থানীয় বাসিন্দা খগেন্দ্র মণ্ডল জানান, কয়েকদিন আগেই তারাপীঠে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনার পর রামপুরহাটে হোটেলের চিমনি থেকে আগুন বের হতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়। পরিস্থিতি গুরুতর বুঝতে পেরে স্থানীয়রাও নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। পাঁচিলের উপর দিয়ে উঠে চিমনির মুখে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র প্রয়োগ করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। তাঁর দাবি, ঘটনায় কেউ আহত হননি। মূলত হোটেলের রান্নাঘরের অংশেই আগুনের প্রভাব পড়েছে।
শনিবার এই হোটেলেই আগুন লাগে
তবে এই ঘটনার পর ফের একবার প্রশ্নের মুখে হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রান্নাঘরের চিমনি ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারাপীঠের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসনের তরফে হোটেল ও লজগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার মধ্যেই রামপুরহাটের এই ঘটনায় হোটেলগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়। তবে ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আরও বড় বিপদ ডেকে না আনে, তার জন্য হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
