খুন মধ্যমগ্রামে। ব্যবহৃত বাইক আসানসোলের। চারচাকা গাড়ির নম্বর শিলিগুড়ির। খুনের আগে মধ্যমগ্রাম এলাকায় ঘোরাফেরা। মাত্র ৫০ সেকেন্ডের মধ্যে 'অপারেশন'। সব কিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে পরিকল্পিত খুনের দিকে। নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি না ফেরা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ খুনে যুক্ত ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতীরা! যুক্ত রয়েছে স্থানীয় দুষ্কৃতীরাও। প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই অনুমান পুলিশের।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, চন্দ্রনাথের গাড়ি অনুসরণ করেই হামলা চালানো হয়েছে। অপরাধের ধরন দেখে অনুমান, দীর্ঘদিন রেকির পর এই অপরাধ করা হয়েছে। ভিনরাজ্যের পেশাদার খুনি বা শার্প শুটার দিয়ে ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলেও অনুমান। ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় দুষ্কৃতী যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কারণ, ঘটনার পরপরই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও অভিযুক্তদের খোঁজ মেলেনি। তদন্তকারীদের অনুমান, অলিগলি দিয়েই দুষ্কৃতীরা পালিয়েছে। এলাকায় পরিচিত কেউ জড়িত না থাকলে তা সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে কেন খুন, তা নিয়ে এখনও ধন্দে পুলিশ।
এ দিকে অপরাধে ব্যবহৃত একটি বাইক ও চারচাকা গাড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। হামলায় ব্যবহৃত দুটি বাইকের একটি উদ্ধার হয়েছে এয়ারপোর্টের আড়াই নম্বর গেট সংলগ্ন একটি আবর্জনার স্তূপের পাশ থেকে। সেটির রেজিস্ট্রেশন আসানসোলের বার্নপুরের জনৈক বিভাস ভট্টাচার্যের নামে। ২০১২ সালে বাইকটির রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল। কিন্তু ওই ঠিকানায় এখন বিভাস নামে কেউ থাকেন না। ২০১৪ সাল থেকে ওই ঠিকানায় রয়েছেন ধরমবীর কুমার নামে কারখানার এক কর্মী। চারচাকা গাড়িটিরও নম্বর পেল্ট ভুয়ো। গাড়িটি শিলিগুড়ির আরটিও-তে নথিভুক্ত। জানা গিয়েছে, গাড়ির মালিক তাঁর গাড়ি বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন তবে গাড়িটি তাঁর কাছেই রয়েছে।
সীমান্ত এলাকার সব থানাকে সতর্ক করে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। যশোর রোড লাগোয়া এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তল্লাশিতে নেমেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ। ঘটনার পর থেকেই মধ্যমগ্রাম এলাকায় ব্যাপক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তাঁর গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, "আমি যদি ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীকে না হারাতাম, তাহলে হয়তো ছেলেটাকে এভাবে মরতে হত না।” হাসপাতালের মর্গে দাঁড়িয়ে তাঁর দাবি, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহায়ক হওয়ার কারণেই পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে প্রাক্তন এয়ারফোর্স কর্মী চন্দ্রনাথকে।
