অরূপ বসাক, জলপাইগুড়ি: ফের নেওড়াভ্যালিতে ধরা পড়ল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। একবার নয়। পর পর তিন ক্যামেরায়, তিন বার। যাদের অস্তিত্বের প্রমাণ পেতে বছরভর অপেক্ষায় ছিল বন দপ্তর, সেই দুর্গম নেওড়াভ্যালির জঙ্গলে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন তিন বার বাঘবন্দির খবরে এক কথায় আপ্লুত বন দফতর। সমতল থেকে সাড়ে সাত হাজার ফুট উঁচুতে পৃথক তিন জায়গায় পাওয়া গিয়েছে একাধিক পায়ের ছাপ। তবে সেটা একই বাঘের,, নাকি আলাদা তিনটি বাঘ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এবার ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে বন দফতর। যাচাই করে দেখা হবে, একটি বাঘেরই একাধিক পায়ের ছাপ, না কি তা আলাদা আলাদা বাঘের। ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গিয়েছে।
[৪৫ থেকে আচমকা অ্যাকাউন্টে ৮ লক্ষ টাকা, ব্যাঙ্কের ‘পরিষেবায়’ বিভ্রান্ত ব্যবসায়ী]
গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের বনাধিকারিক নীশা গোস্বামী জানান, নতুন করে গত ডিসেম্বর মাসে আরও ১৫টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয় নেওড়াভ্যালির জঙ্গলে। আর তাতেই নতুন বছরের শুরুতে বাজিমাত। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জঙ্গলের পৃথক তিন জায়গায় ক্যামেরাবন্দি হয়েছে পূর্ণবয়স্ক তিনটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। পাওয়া গিয়েছে পায়ের ছাপও। যা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে তিনটি ছবি একই বাঘের, নাকি আলাদা তিনটি বাঘের। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট সেই সব এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। স্থানীয় মানুষ জনকেও সতর্ক করছেন বনকর্মীরা। বর্তমানে ২২টি ট্র্যাপ ক্যামেরায় নজরদারি চলছে নেওড়াভ্যালির জঙ্গলে। নতুন বছরের বাঘ দর্শনের ঘটনার পর ১৫৯.৮৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত দুর্গম এই জঙ্গলে বাঘের পাশাপাশি বসবাসকারী অন্যান্য বন্যপ্রাণীর অস্তিত্বের প্রমাণ পেতে ট্র্যাপ ক্যামেরার সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন দফতর। বাংলার ভার্জিন জঙ্গল হিসাবে পরিচিত নেওড়াভ্যালি।
[উত্তর কোরিয়াতেই ভেঙে পড়ল কিমের ক্ষেপণাস্ত্র, দাবি মার্কিন রিপোর্টে]
সমতল থেকে সাড়ে দশ হাজার ফুট উঁচু হিমালয় পাহাড়ের উপর এই জঙ্গলের এক পাশে রয়েছে ভুটান, অন্যদিকে সিকিম। কিছুটা দূরেই চিনের সীমান্ত। গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই জঙ্গলে প্রথমবার ১৯৯৩ সালে বাঘের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে। সরাসরি চোখে না পড়লেও পায়ের ছাপ, মলের নমুনা, শিকারের পর পড়ে থাকা খাবারের অংশ পরীক্ষা করে সরকারিভাবে জানানো হয়, ১৩টি বাঘের অস্তিত্ব থাকতে পারে নেওড়াভ্যালির জঙ্গলে। কিন্তু তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ২৫ বছর। মাঝেমধ্যে গম্ভীর গর্জনে এলাকা কেঁপে উঠলেও সরাসরি দেখা যায়নি কোনও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। তারপর থেকে বন দফতরের তরফেও আর বিশেষ উদে্যাগ চোখে পড়েনি। কিন্তু গত বছরের ১৯ জানুয়ারি লাভা থেকে খানিকটা দূরে ১৪ ফেরি এলাকায় আনমোল ছেত্রী নামে স্থানীয় এক গাড়ি চালক রয়্যাল বেঙ্গলের ছবি মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করেন। সরকারিভাবে বাঘের অস্তিত্বের প্রমাণ পেতে পরের দিনই ট্র্যাপ ক্যামেরা বসায় বন দফতর। সেই ট্র্যাপ ক্যামেরাতেও ২৭ জানুয়ারি এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি পরপর দুবার ধরা পড়ে বাঘের ছবি। তারপর আবার গত দশ মাসে আর বাঘের অস্তিত্বের কোনও প্রমাণ ফেলেনি। এবার ফের পরপর তিনটি ক্যামেরায় বাঘের ছবি ধরা পড়ায় যারপরনাই উচ্ছ্বসিত বন দফতরের আধিকারিকরা।
The post ফের নেওড়ায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, পরপর তিন ক্যামেরায় মিলল খোঁজ appeared first on Sangbad Pratidin.
