বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেপ্তার (Debraj Chakraborty Arrested)। পুরুলিয়ার সদর থানা এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন দেবরাজ। যদিও তাঁর আর্জি খারিজ হয়ে যায়। তারপরই গ্রেপ্তার হন দেবরাজ।
বঙ্গ রাজনীতিতে বরাবরই বেশ চর্চিত নাম দেবরাজ চক্রবর্তী এবং অদিতি মুন্সি। উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী। যুব তৃণমূল কর্মী হিসেই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের সূচনা। ২০১৩ সালে পুরসভার উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন দেবরাজ। কিন্তু তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। ২০১৫-তেও মেলেনি টিকিট। তারপর কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। বিধাননগর পুরনিগম এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের টিকিটে লড়েন তিনি। জিতেওছিলেন। পরবর্তীতে ফিরে যান তৃণমূলে। বিয়ের পর স্ত্রী অদিতি মুন্সিকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন রাজনীতিতে। ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর আসনে বিধায়ক হন তিনি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, ভোটের আগে অদিতি ও দেবরাজ অন্তত ১০০ কোটি টাকা সম্পত্তি বেনামে ও আত্মীয়স্বজন, পরিচিতদের মধ্যে হস্তান্তরিত করেছেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী হলফনামায় তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সির সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও তোলাবাজি, সিন্ডিকেট চালানো, জমি দখলের মতো অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অদিতি এবং দেবরাজ।
আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য রাজনীতিক দম্পতির হয়ে সওয়াল করেন। গত ২৪ জুন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত জানান, চারমাসের শিশুসন্তান রয়েছে অদিতির। এই অবস্থায় তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করা হয়। তবে অদিতির বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে হাই কোর্ট। নিম্ন আদালতে জমা রাখতে হবে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের পাসপোর্ট। শুধু তাই নয়, বাগুইআটি থানা এলাকায় তিনি ঢুকতে পারবেন না বলেও নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। তবে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায় অদিতির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর। তাঁকে তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। তারপরই গ্রেপ্তার হলেন দেবরাজ।
