রাজ্যে পালাবদলের পরেই গঙ্গাপাড়ে বারাকপুর এলাকায় একাধিক বন্ধ জুটমিল খুলতে শুরু করেছে। এবার হুগলির গঙ্গাপাড়ের বন্ধ জুটমিলও খুলবে। রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের উদ্যোগে বন্ধ জুটমিল খোলা শুরু হয়েছে। এবার চন্দননগরের গোন্দলপাড়া, শ্রীরামপুরের ইন্ডিয়া, এবং রিষড়ার হেস্টিংস ও ওয়েলিংটন জুটমিল খুলবে। চারটি জুটমিল খোলার কথা শুনেই আশায় বুক বেঁধেছেন হাজার হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। দিন কয়েকের মধ্যেই এই চারটি জুটমিল খুলে যাবে। প্রাথমিকভাবে এমনই কথা শোনা গিয়েছে।
শ্রীরামপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, "সরকার জুটশিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এবার হুগলি জেলায় চারটি জুটমিল খুলবে। নিশ্চিতভাবেই শ্রমিকদের মুখে হাসি ফুটবে। পাশাপাশি আমরা মালিকদের কাছে জুটমিলের শ্রমিক মহল্লাগুলিরও উন্নয়নে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। মিল, কলকারখানা ভালোভাবে চালাতে আগামী দিনে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।" শ্রমমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে অর্জুন সিং জুটমিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সেখানেই এই সাফল্য, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিধানসভা ভোটের কিছুদিন আগে বন্ধ হয়েছিল চন্দননগরের গোন্দলপাড়া জুটমিল। সেখানে প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। জুটমিলের শ্রমিক প্রমোদ মণ্ডল বলেন, "জুটমিল বছরে ছয় থেকে সাত মাস বন্ধ থাকে। আশা করি, নতুন সরকারের আমলে সেই সমস্যা মিটবে। এই সরকারের প্রতি আমাদের ভরসা আছে।" চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে বন্ধ শ্রীরামপুরের ইন্ডিয়া জুটমিল। এই মিলে প্রায় ২ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।
রিষড়ার হেস্টিংস জুটমিল বন্ধ হয় জুনের শুরুতেই। এই মিলেও শ্রমিকের সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি। শ্রমিকদের অভিযোগ, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের উদাসীনতার কারণেই জুটমিল-সহ বিভিন্ন কল-কারখানাগুলি বন্ধ। জুটমিল খোলার পাশাপাশি সেগুলি যাতে ফের বন্ধ না হয়, ব্যবস্থা নিক রাজ্য সরকার। গোন্দলপাড়া জুটমিলের এক ম্যানেজার শুভেন্দু পাল জানিয়েছেন, বর্তমানে মিলের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। তবে মিল কবে খুলবে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। শীঘ্রই জুটমিল খুলবে, সেই কথা শোনার পরেই আনন্দ শ্রমিক পরিবারগুলিকে।
