shono
Advertisement

Breaking News

Durgapur

বাংলার বুকে নতুন জামতাড়া! হোটেলে বসেই দেশজুড়ে প্রতারণা? পর্দাফাঁস বড়সড় কেলেঙ্কারির

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ধৃতরা একই হোটেলে থাকতেন না। পুলিশের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন হোটেলে তাঁরা গা ঢাকা দিয়ে প্রতারণার ছক কষত।
Published By: Kousik SinhaPosted: 01:57 PM Sep 08, 2026Updated: 02:06 PM Sep 08, 2026

দেশজুড়ে ক্রমশ ছড়াচ্ছে প্রতারণার জাল। বিভিন্ন মানুষকে টার্গেট করে পাতা হচ্ছে প্রতারণার জাল। আর সেই জালে জড়িয়ে সর্বত্র হারাতে হচ্ছে জন সাধারণকে। আর সেই তদন্তে নেমে বড়সড় কেলেঙ্কারির পর্দাফাস করল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুর্গাপুর স্টেশন বাজার সংলগ্ন সাধুডাঙা এলাকার একটি হোটেলে হানা দিয়ে চার যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। হোটেলের ঘরকে কার্যত প্রতারণার ‘অফিস’ বানিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে টার্গেট করে চলছিল প্রতারণার কারবার। আর সেই খবর পেয়েই শুরু হয় পুলিশের অভিযান। জানা গিয়েছে, ধৃত চারজনের বিরুদ্ধে ‘জামতাড়া 'গ্যাং'য়ের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) রাসপ্রিত সিং বলেন, “চারজনই ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের বাসিন্দা। এই হোটেল থেকেই প্রতারণার কাজ চলত। বিভিন্ন হোটেলে আমাদের অভিযান চলছে। সেই অভিযানের সময়ই এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের পুলিশি হেফাজত চেয়ে তদন্ত চালানো হবে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত চার যুবকই ঝাড়খণ্ডের দেওঘর জেলার মধুপুর এলাকার বাসিন্দা। ধৃতদের নাম গণেশ সদ্দার, সচিন দাস, জিতেন্দ্র কুমার দাস এবং সুরেন্দ্র দাস। তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একাধিক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ড-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হোটেলে বসেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষকে ফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে টার্গেট করে প্রতারণার জাল বিস্তার করত অভিযুক্তরা। বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাঁদের কাছ থেকে কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই চক্রের মূল লক্ষ্য বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। শুধু তাই নয়, ধৃতদের জেরা করে ইতিমধ্যে একাধিক তথ্য পেয়েছেন আধিকারিকরা।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ধৃতরা একই হোটেলে থাকতেন না। পুলিশের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন হোটেলে তাঁরা গা ঢাকা দিয়ে প্রতারণার ছক কষত। ফলে তাদের গতিবিধি সম্পর্কে সহজে আঁচ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের কাছে পৌঁছে যায় চারজনের অবস্থানের খবর। এরপরই দুর্গাপুর স্টেশন বাজারের সাধুডাঙা এলাকার ওই হোটেলে অভিযান চালায় কোকওভেন থানার পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে চার যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের প্রতারণার জাল কতদূর বিস্তৃত এবং কীভাবে তারা সাধারণ মানুষকে টার্গেট করত তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন-সহ অন্যান্য সামগ্রীও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) রাসপ্রিত সিং বলেন, “চারজনই ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের বাসিন্দা। এই হোটেল থেকেই প্রতারণার কাজ চলত। বিভিন্ন হোটেলে আমাদের অভিযান চলছে। সেই অভিযানের সময়ই এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের পুলিশি হেফাজত চেয়ে তদন্ত চালানো হবে।” ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারণা চক্রের নেটওয়ার্ক, তাদের সম্ভাব্য সহযোগী এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া টাকার লেনদেনের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। দুর্গাপুরে হোটেলকেন্দ্রিক এই ধরনের প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আগামী দিনেও চলবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement