বয়স মাত্র তিন। কিন্তু এখন থেকেই তিনিই যেন সেলিব্রিটি! সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই আদো আদো উচ্চারণ আর সুরেলা কন্ঠ ঝড় তুলছে নিরন্তর। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি ছাড়িয়ে এই মঞ্চ কাঁপাতে কলকাতাতেও ডাক মিলছে ছোট্ট সূর্যের। সূর্য সরকার। শিলিগুড়ির মধ্য শান্তিনগরের বাসিন্দার বাবা দেবজিৎ এবং মা রুম্পা সরকারও সংগীতশিল্পী। কিন্তু তাঁদের জীবন বদলে গিয়েছে একমাত্র সন্তানের সুরেলা কীর্তিতে।
কীভাবে ভাইরাল সূর্য? সঙ্গীত আবহে ভরপুর সরকার পরিবারে ছোট থেকে গানবাজনা ভালোবাসে খুদে। বাবার সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে গান গায় সে। পরিবার সূত্রে দাবি, গত বছরের জুন মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবা-ছেলে মিলে একটি গানের ভিডিও পোস্ট করেন।
বাবা-মায়ের সঙ্গে খুদে। নিজস্ব চিত্র
জনপ্রিয় সেই ‘মেলার গানে’ সুর দেয় সূর্য। মুহূর্তেই ভাইরাল হয় ভিডিও। সোশ্যাল ঝড়ে সূর্যর সুরে মাতোয়ারা হয় জেন জি! যার আঁচ যায় তারকাদের উপরেও। একরত্তির গানে মজেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। তাঁদের গানের অনুষ্ঠানে দেখানো হয় সেই ভিডিও। এমনকী বাবা দেবজিতের সঙ্গে সূর্যকে ডাকা হয় এক জনপ্রিয় রিয়ালিটি শোয়ে। সেখানেই সূর্যর সঙ্গে গান গান রকস্টার রূপম ইসলাম।
সঙ্গীতের মঞ্চে উপস্থিত সুরকার-গায়ক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ও সুরে তালে মজে ওঠেন সূর্যের সঙ্গে। আনমনা, খেলার সঙ্গে মেতে থাকা সূর্য এখনও বোঝে না ভাইরাল কাকে বলে। কিন্তু তার এই কীর্তিতে এখনই বুঁদ নেটদুনিয়া। যদিও ছেলের জন্য স্বপ্নপূরণ হয়েছে বাবার। বহুবার অডিশনে ব্যর্থ হয়েও সেই একই রিয়ালিটি শোয়ের মঞ্চে জায়গা মিলেছে ১৫ বছর বয়স থেকে গান গাওয়া দেবজিতের।
বাবার কোলে সূর্য। নিজস্ব চিত্র
সূর্যর বাবা অর্থাৎ সংগীতশিল্পী দেবজিৎ সরকার বলছেন, ‘‘ছোট থেকে আমিও স্বপ্ন দেখতাম বড় সংগীতশিল্পী হব। বহুবার চেষ্টা করেছি, সেইভাবে কোথাও সুযোগ আসেনি। কিন্তু ছেলে আমার জীবনেও অনেক পরিবর্তন এনেছে। সেদিন কিছু না ভেবেই মেলার গান গেয়ে ভিডিও পোস্ট করি আমরা। বুঝতে পারিনি, সেই ভাইরাল ভিডিও আমাদের দুজনের পরিচয় বদলে দিয়েছে! বহু স্বপ্নের তারকাদের সঙ্গে গান গেয়েছি। মঞ্চে গাইছি। সকলেই আশীর্বাদ করছেন। সূর্য বড় হয়ে যায় হতে চায় হোক, কিন্তু এখন যে ওর সঙ্গীতের প্রতিই মূল আগ্রহ, সেটাই অনেক।’’
