সঞ্জীব মণ্ডল, শিলিগুড়ি: ব্রিটেনের প্রতিদ্বন্দ্বীকে টেক্কা দিয়ে দুই সন্তানের বাবা হয়ে কার্যত হিরো ফ্রান্সের তুষারচিতা। ইতিমধ্যে মা ও দুই তুষারচিতা শাবক সুস্থ রয়েছে পদ্মজা নায়ডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক প্রজনন কেন্দ্রে। দুই শাবকের জন্ম দেওয়া জিমা নামে ওই স্ত্রী তুষারচিতাটিকে তার শাবক-সহ বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এদিকে ফ্রান্সের নামখা দুই শাবকের পিতা হয়ে হিরো হলেও এক্ষেত্রে তারই প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রিটেনের মাকালু কার্যত জিরো। কেননা, চিড়িয়াখানার ৮ স্ত্রী চিতার যেমন তাকে নিয়ে কোনও আকর্ষণ নেই, তেমন এ নিয়ে কোনও হেলদোল নেই মাকালুরও।
পর্যটকদের মন কাড়ার পাশাপাশি প্রজননের মাধ্যমে চিড়িয়াখানায় বংশ বাড়াতে ২০১৬ সালের বিদেশ থেকে দু’টি তুষারচিতা আনা হয়। ২০১৬–র জুন মাসে লন্ডন থেকে আনা ওই পুরুষ তুষারচিতার নাম মাকালু। ওই বছরেই আগস্টে ফ্রান্স থেকে আনা হয় নামখা নামে আরও একটা পুরুষ তুষারচিতা। বিদেশ থেকে কলকাতা হয়ে দার্জিলিংয়ে আনার পর স্থানীয় ভৌগোলিক পরিবেশে তাদের মানিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তাতে ওই দু’টি চিতাই মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়। এরপর তাদের বংশবৃদ্ধির কাজে লাগানো হয়। চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, আলাদা আলাদা এনক্লোজারে রাখা হলেও ব্রিটেনের মাকালুকে টেক্কা দিয়ে ৮ স্ত্রী তুষারচিতার কাছে কার্যত হিরো ফ্রান্সের নামখা। তবে জিমা নামে একটি স্ত্রী তুষারচিতাই প্রথম পছন্দ নামখার। ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে জিমা। ৪ মার্চ জোড়া শাবক প্রসব করে জিমা। প্রসবের পর শাবক-সহ জিমা এখন পুরোপুরি সুস্থ। দুই শাবকই মায়ের দুধই খাচ্ছে। আর প্রসূতি জিমাকে নিয়ম করে দেওয়া হচ্ছে মাটন, বিফ এবং ছাগলের যকৃত। দার্জিলিং চিড়িয়াখানা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে প্রজনন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে শাবক-সহ জিমাকে। জিমা দূরে হতেই নামখার নজরে এখন আরও একটি স্ত্রী তুষারচিতা। দার্জিলিং চিড়িয়াখানার অধিকর্তা পিয়ার চাঁদ বলেন, “এর ফলে আশা করছি শীঘ্রই আরও ভাল খবর মিলবে। আরও নয়া অতিথি আসার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন তাঁরা।”
[শিকার উৎসবে বন্যপ্রাণ হত্যা রুখতে পুরুলিয়ায় বনকর্মীদের সঙ্গে অভিযানে পুলিশও]
১৯৮৫ সাল থেকে দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় তুষারচিতা সংরক্ষণের ব্যবস্থা শুরু হয়। এই মুহূর্তে তিনটি পুরুষ এবং ৮টি স্ত্রী তুষারচিতা ও দু’টি শাবক রয়েছে। নামখা এবং মাকালু ছাড়া অন্য পুরুষ চিতাটি বয়সের ভারে নুব্জ। দর্শকদের মন মাতাতে দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় রয়েছে রেডপান্ডা থেকে নীলভেড়া। রয়েছে তিব্বতি নেকড়েও। এই চিড়িয়াখানায় এই মুহূর্তে ৫–৬টি নীলভেড়া, ১৬-১৭টি রেডপান্ডা রয়েছে৷ রেডপান্ডা, তুষারচিতা, নীলভেড়া, তিব্বতি নেকড়ে-সহ বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীদের ঠাঁই দিয়ে পর্যটকদের মন জয় করতে দার্জিলিং চিড়িয়াখানার সুনাম রয়েছে। আর এই সুনাম ধরে রাখার পাশাপাশি বংশবৃদ্ধি ঘটিয়ে এই চিড়িয়াখানার গর্ব আরও বাড়াতে তৎপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ৷ এই উদ্দেশে বিদেশ থেকে তুষারচিতা, নীলভেড়া আনার পাশাপাশি সাফল্যের সঙ্গে প্রজনন ঘটিয়ে বংশবৃদ্ধির পর তা অন্য চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরও করছে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলে জানান পিয়ার চাঁদ।
The post ব্রিটেনের মাকালুকে টেক্কা দিল ফ্রান্সের নামখা, খুশির ঢেউ পাহাড়ের চিড়িয়াখানায় appeared first on Sangbad Pratidin.
