ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক আধিকারিক। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে (Sonarpur)। ধৃতের নাম অমিত দে। জানা গিয়েছে, ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৯ সালে। সেসময় নির্যাতিতা বয়সের বিচারে নাবালিকা ছিল। শুধু ধর্ষণই নয়, নির্যাতনের ভিডিও মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ওই তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়েছে। কিন্তু ওই বিয়েতে আপত্তি তুলেছিলেন ওই ব্যক্তি। তরুণী যাতে বিয়ে করতে না পারে, সেজন্য নির্যাতনের সেই ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করাও শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত তরুণী ও তাঁর পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হন। লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ গতকাল, সোমবার রাতে পুলিশ অভিযুক্ত অমিত দে-কে গ্রেপ্তার করেছে।
কিন্তু ঘটনাটি কী? জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর বাবা পেশায় প্লাম্বার। ২০১৯ সালে অমিতের বাড়িতে কাজের সূত্রে তিনি গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই দু'জনের পরিচয়। সেই সূত্রেই ওই ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ওই কিশোরীর। বাবার পরিচিত বলে ওই ব্যক্তিকে 'কাকু'ও সম্বোধন করত সে। সেই কাকুই যে এই 'ন্যক্কারজনক' কাজ করবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি ওই পরিবার।
জানা গিয়েছে, ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার অছিলায় ওই ব্যক্তি কিশোরীকে নিয়ে গিয়েছিলেন এক শুনশান জায়গায়। অভিযোগ, সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, আপত্তিকর মুহূর্তের ভিডিও করে রাখা হয়! কাউকে কিছু জানালে ফল ভালো হবে না, সেই হুমকিও দেওয়া হয়! শুধু তাই নয়, সোশাল মিডিয়ায় ওই ভিডিও, ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও ব্ল্যাকমেল করা হত বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি ওই তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। সেই কথা জানার পরই আপত্তি তুলেছিলেন ওই ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক! অভিযোগ, সোশাল মিডিয়ায় ওই ছবি, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে ফের ব্ল্যাকমেল করা হয়। শুধু তাই নয়, পাত্রের বাড়িতেও পৌঁছে যায় ওই সরকারি কর্মী! ঘটনার কথা জানানোর পর বিয়ে ভেঙে যায় তরুণীর। এরপরই আর অপেক্ষা করেননি ওই তরুণী। গতকাল, সোমবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। রাতেই অভিযুক্ত অমিত দে-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃতের স্ত্রী ও সন্তানও রয়েছে। ধর্ষণের ঘটনার সময় নির্যাতিতা নাবালিকা ছিল। সেজন্য পকসো ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে প্রাথমিক খবর।
