রাজ্য সরকার তথা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে উচ্ছেদ অভিযান। শোকজ করা হল আসানসোল পুরনিগমের তিন আধিকারিককে। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানিয়েছেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাসপেনশনের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে কিছু অসাধু আধিকারিক চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
হঠাৎ করেই আসানসোলের জিটি রোডের বাজার লাগোয়া পার্কিং জোনে বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ অভিযান চলে। এ দিকে এই অভিযানের কোনও সরকারি অনুমতি ছিল না বলে জানা গিয়েছে। অভিযানে রুজি-রুটি হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত হকাররা। এক হকার বলেন, “আমাদের মালপত্র বের করার সময় দেয়নি। লাঠিচার্জ করছিল। কম করে আমার ৪০-৫০ হাজার টাকার মালপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।” রুটি-রুজি হারানো হকারদের প্রশ্ন,"আমরা এখন কোথায় যাব?"
উচ্ছেদের কড়া নিন্দা করেছেন কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ পুইতোন্ডিও। তিনি বলেন, "কালকে ১৫ দিনের নোটিস হয়েছিল। সেই নোটিসকে না মেনে কারা বুলডোজার চালাল? একরকম অর্ডার দিয়ে গেলেন আর অন্যরকম রকম ঘটনা ঘটল?”
বিতর্কের পর পুরমন্ত্রী পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন। পুরানো হকারদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের নতুন বাজারে স্থান দেওয়ার পাশাপাশি ‘পিএম স্বনিধি’ প্রকল্পের আওতায় এনে স্বল্প সুদে ঋণের সুবিধা দেওয়া হবে। বর্তমানে জেলাশাসক ও পুর প্রশাসক গোটা বিষয়টি তদারকি করছেন।হকারদের পাশে দাঁড়ালেও পুরমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন , ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা, তাই কেউ তা দখল করতে পারবেন না। তবে সরকার জোরপূর্বক নয়,পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে চাইছে।
