শান্তনু কর, জলপাইগুড়ি: পাহাড় ও সমতলে লাগাতার বৃষ্টির জেরে ডুয়ার্সে বন্যা পরিস্থিতি। প্লাবিত বানারহাট, বিন্নাগুড়ি, গয়েরকাটা এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, চা-বাগান, রাজ্য সড়ক এবং রেলপথ। বানারহাট রেল স্টেশন সংলগ্ন ৯৩/১ নং পিলারের কাছে রেললাইনের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার ডুয়ার্স রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ। রেললাইন মেরামতের কাজ শুরু করেছে রেলদপ্তর।
ভুটান পাহাড় সেই সঙ্গে ডুয়ার্স জুড়ে রবিবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে বানারহাটের বিস্তীর্ণ এলাকা।ভুটান পাহাড়ের জলে হাতি নালা প্লাবিত হওয়ায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে বানারহাট, বিন্নাগুড়ি, গয়েরকাটা এলাকা। রাতেই জলবন্দি হয়ে পড়েন কয়েক হাজার মানুষ। রাত ১টা থেকে জল ঢুকতে শুরু করে বানারহাট বাজার এলাকায়। রাজ্য সড়কের উপর দিয়ে এক হাঁটু জল বইতে থাকে। আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান খুলে মাল সারানোর কাজ শুরু করেন। বানারহাট, লক্ষ্মীপাড়া, তেলিপাড়া-সহ পাঁচটি চা-বাগান প্লাবিত হয়। জলমগ্ন হয়ে পড়ে বিন্নাগুড়ি এস এম কলোনি, নেতাজি পাড়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা।
[আরও পড়ুন: ‘ন্যক্কারজনক! হায়নার দল…’, যাদবপুরকাণ্ডের তীব্র নিন্দা প্রাক্তনী চিরঞ্জিতের]
কাশিয়াঝোরার বাঁধের উপর দিয়ে বইতে থাকে জল। তাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যাতায়াতের রাস্তার। সেই জল ঢুকে পড়েছে একাধিক বাড়িতে। রাতেই কাশিয়াঝোরা এলাকায় জলবন্দি হয়ে পড়া লোকজনদের বাড়িতে ছুটে যান জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি সীমা চৌধুরী। জলবন্দি মানুষজনের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি জেলাশাসককে ফোনে পরিস্থিতির কথা জানান তিনি।
সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টি থামায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আতঙ্কমুক্ত হতে পারছেন না বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্ত রেল পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে মেরামতের কাজ চলছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসেবনিকেশের পাশাপাশি ঘর ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মানুষজনকে সকাল এবং দুপুরের খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান সহকারী সভাধিপতি সীমা চৌধুরী।
দেখুন ভিডিও:
