shono
Advertisement
Purba Bardhaman

বিজেপির কর্মসূচিতে বাবা, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছেলেকে পুকুরে ধাক্কা মেরে ফেলল তৃণমূল নেতা!

সিসিটিভি ফুটেজে অত্যাচারের ছবি ধরা পড়া সত্ত্বেও কেন তৃণমূল সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
Published By: Sayani SenPosted: 04:42 PM Feb 12, 2026Updated: 04:48 PM Feb 12, 2026

বিজেপির কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বাবা। সেটাই তাঁর একমাত্র 'অপরাধ'। আর তার শাস্তি দিলেন তৃণমূল সভাপতি ও তাঁর দলবল। বাবা ও ছেলেকে মারধর করে পুকুরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলেই অভিযোগ। এই ঘটনায় লেগেছে রাজনীতির রং। শুরু হয়েছে তৃণমূল ও বিজেপি জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। সিসিটিভি ফুটেজে অত্যাচারের ছবি ধরা পড়া সত্ত্বেও কেন তৃণমূল সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

Advertisement

সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে পুকুরে ধাক্কা মেরে ফেলার ছবি, এখনও অধরা তৃণমূল নেতা। নিজস্ব চিত্র

পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের বোঁয়াইচন্ডী এলাকার বাসিন্দা ওই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। অভিযোগ, তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি শেখ সাহাদ আলি ওরফে লকাইয়ের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন ব্যবসায়ী দীপক অধিকারী ও তাঁর ছেলে আস্তিক অধিকারীকে মারধর করে পুকুরে ফেলে দেয়। দীপকবাবুর দোকানেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনার পর আহতরা খণ্ডঘোষ ব্লক হাসপাতালে চিকিৎসা করান। এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান। প্রথমে খন্ডঘোষ থানার 'মেজোবাবু' অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন বলেই দাবি বাবা ও ছেলের। এমনকি তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। পরবর্তীতে বিজেপি নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে থানার ওসি অভিযোগ নেন। তবে নতুন করে অভিযোগ লেখানোর সময় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আস্তিক অধিকারীর নাম বাদ দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনা ধরা পড়ে সিসিটিভি ফুটেজে। তা সত্ত্বেও কেন অঞ্চল সভাপতি শেখ সাহাদ আলি ওরফে লকাইকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। উল্লেখ্য, এর আগেও অভিযুক্ত শেখ লকাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। কয়েকদিন আগে বোঁয়াইচণ্ডী বাজারের ব্যবসায়ী সুবীর মণ্ডলকে গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সে ক্ষেত্রেও পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। পরে বর্ধমান আদালতের নির্দেশে মামলা রুজু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালি মাফিয়ার সঙ্গে যুক্ত শেখ লকাই। এলাকায় সন্ত্রাস এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছেন তিনি। বিজেপির তরফে অবিলম্বে শেখ লকাইকে গ্রেপ্তারির দাবি উঠেছে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি। তাঁর দাবি, "ব্যবসায়ী দীপকের এক ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে কয়েকদিন আগে। তাঁর স্ত্রীর ও ছেলের নামে কিছুটা জমি রয়েছে। সেটা দীপক দখল করে রেখেছে। ওই মহিলাকে দীপকরা মারধর করে। তাই আমরা গিয়েছিলাম যাতে ওই মহিলা তাঁর জমি পান। বাকি যা অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা।" স্থানীয় তৃণমূল নেতা বাগবুল ইসলাম বলেন, "আইন আইনের পথে চলবে। পুলিশ তদন্ত করছে। যে বা যারা অভিযুক্ত নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement