ঘরে ঝুলছে পরপর ৩টি দেহ। তাঁরা সম্পর্কে বাবা-মা-মেয়ে। মেয়েটি নাবালিকা। একটি সিলিং ফ্যান থেকে ৩ জনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘরের দেওয়ালে লেখা, 'আমাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী রবীন্দ্রনাথ।' শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির ধনেখালিতে (Dhaniakhali)। পরিবারটি আত্মহত্যা করে থাকলে তা কেন? তা নিয়ে ধোঁয়াশা। তবে লিখে যাওয়া সুইসাইড নোট অনুযায়ী, প্রতিবেশী রবীন্দ্রনাথ মুর্মু, বাড়ির মালিক বাড়ির মালিক মধুমিতা সিংহরায়, তাঁর মা ইন্দ্রানী সিংহরায় ওরফে টিঙ্কু ও স্বামী জামাই জয় সিংহরায়কে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
শুক্রবার সকালে দীর্ঘক্ষণ তাঁদের কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা খোলা হয়। তখনই তিনজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। খবর যায় পুলিশে। পৌঁছন আধিকারিকরা। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম উত্তম চাঁই, স্ত্রীর নাম রূপা চাঁই ও মেয়ের নাম অঙ্কিতা। মাস পাঁচেক আগে পরিবারটি ধনেখালির সোমসপুর দুলেপাড়ার একটি বাড়িতে ভাড়াটে হিসাবে আসে। একটি দোতলা বাড়ির নিচের তলা ভাড়া নিয়েছিলেন তাঁরা। জানা যাচ্ছে, এই পরিবারটি আদতে ডানকুনির বাসিন্দা ছিলেন। কেন তাঁরা ডানকুনি ছেড়ে হুগলির ধনেখালিতে থাকতে শুরু করেন রয়েছে সেই প্রশ্নও। বাবা-মা-বোনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের বড় মেয়ে মধুমিতা পাল দেহ শনাক্ত করেছেন। এই মেয়ের সঙ্গে চারবছর ধরে কোনও সম্পর্ক ছিল না।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, প্রায় পাঁচ মাস হয়ে গেলেও এই পরিবারটি এলাকাবাসীর সঙ্গে খুব একটা কথাবার্তা বলতেন না। মেলামেশা কম ছিল। শুক্রবার সকালে দীর্ঘক্ষণ তাঁদের কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা খোলা হয়। তখনই তিনজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। খবর যায় পুলিশে। পৌঁছন আধিকারিকরা। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বাড়ি, কেনাবেচা সংক্রান্ত গন্ডগোল রয়েছে। সেই মানসিক অবসাদে তারা আত্মহত্যা করেছে। বেশকিছু নথি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
