shono
Advertisement
Saokat Molla

মাছ থেকে মার্কস! রেজ্জাকের শিষ্য কীভাবে হয়ে ওঠেন মমতার আস্থাভাজন? শওকতের উত্থান যেন চিত্রনাট্য

২০১০ সালে জীবনতলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাতে নাম জড়িয়েছিল শওকতের।
Published By: Jaba SenPosted: 06:56 PM Jun 06, 2026Updated: 08:08 PM Jun 06, 2026

ছিলেন সিপিআই(এম) নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রেজ্জাক মোল্লার ঘনিষ্ঠ। শওকত মোল্লা (Saokat Molla) মাছ ব্যবসায়ী থেকে হয়ে উঠেছিলেন মার্কসবাদী। ২০১০ সালে জীবনতলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাতে নাম জড়িয়েছিল তাঁর। এরপর কীভাবে তিনি মমতারই 'ডান হাত' হয়ে উঠলেন?

Advertisement

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে কয়েকটি রাজনৈতিক গান তৈরি হয়েছে তার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় হয় 'মাছ চোর' গানটি। সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল এই গান। আর যাকে নিয়ে এই গান তৈরি হয়েছে সেই শওকাত মোল্লা এখন এনআইএ-র জালে। তিনি গ্রেপ্তার হতেই রকেটের গতিতে তাঁর উত্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি মাছের ব্যবসা করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকবার মাছ চুরির অভিযোগও উঠেছে। সিপিএমের রেজ্জাক মোল্লার হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ তাঁর। রাজ্যে সিপিএম সরকারের পতনের পর তৃণমূলে যোগদান করেন তিনি। দু'বার তাঁর পর হামলার ঘটনাও ঘটে। কিন্তু দুবারই তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

মূলত ২০০৮ সালে সিপিএমের জোনাল কমিটির সদস্যপদ পান শওকত। ক্যানিং ২ নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিসেবেও নির্বাচিত হন তিনি। জানা গিয়েছে, রেজ্জাক মোল্লার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে যে কয়েকজন ঘোরাফেরা করতেন তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন শওকত মোল্লা। ২০১০ সালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনতলা এলাকায় রাজনৈতিক সভা করতে এলে তাঁর উপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় শওকত মোল্লা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় শওকত মোল্লা-সহ বেশ কয়েকজন সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে মামলাও হয়।

রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর রেজ্জাক মোল্লার হাত ছেড়ে তৃণমূল শিবিরে যোগ দেন শওকত। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে যায়। ২০১৩ সালে এলাকায় একটি রাজনৈতিক খুনের মামলায় এলাকার বেশ কয়েকজন পুরনো তৃণমূল নেতাকর্মীর জেল হয়। ক্যানিং ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মানিক পাইকের খুনের পর দলের ব্লক সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন শওকত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে চলে আসেন তিনি। এরপর থেকে ধীরে ধীরে তিনি ক্যানিংয়ের বেতাজ বাদশায় পরিণত হন।

২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়ী হোন। এরপর এই বিধানসভা এলাকায় বিরোধীদের কোনও অস্তিত্বই ছিল না। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় একের পর এক বাড়ি ভাঙচুর, বিরোধীদের মারধর, বোমা, গুলিতে উত্তপ্ত হয়েছিল ক্যানিং পূর্ব এলাকা। এলাকায় সব উত্তেজনার জন্যই বিরোধীরা দায়ী করতেন শওকত। ২০১৯ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। এরপর জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একাধিক বিধায়ককে দলীয় টিকিট দেওয়ার ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

২০২১ সালে নির্বাচনেও ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। এই নির্বাচনের পর এলাকায় যে সন্ত্রাসের ঘঠনায় শওকতের নাম জড়ায়। বুলডোজার দিয়ে বিরোধীদের বাড়ি ভাঙচুর, মারধর, লুটপাটের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এরপর তৃণমূলে আরও বড় দায়িত্ব পান তিনি। সাতগাছিয়া এবং ভাঙড় দুটি কেন্দ্রেরই দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। বিধানসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যান্ডিং কমিটির মেম্বার ছিলেন তিনি। নিরাপত্তা বেড়ে যায় শওকত মোল্লার। রাজ্যের তরফে ২৬ জন পুলিশ দিয়ে সব সময় তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হত। তিনি জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন। নিজের নিরাপত্তা শওকতকে দিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে ক্যানিংয়ের রাজনৈতিক সভা থেকে মমতা বলেছিলেন, "আমি বাঁ হাত হলে শওকত আমার ডান হাত। কোনও অত্যাচার হলে ছেড়ে কথা বলব না। দরকার হলে আমার সিকিউরিটি তুলে শওকতকে দেব।" এবার সেই শওকতই এনআইএ-র জালে।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাঙড়ে যে রাজনৈতিক খুন হয় সেই ঘটনাতেও শওকত মোল্লাকে দায়ী করে আইএসএফ। গত কয়েকবছরে তৃণমূলের একাংশও শওকত বিরোধী হয়ে উঠেছিল। ছাব্বিশের নির্বাচনে তাঁকে ভাঙড় থেকে টিকিট দেয় দল। এই আসনে তিনি আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকীর কাছে পরাজিত হন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ভাঙড়ের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় শওকতকে গ্রেপ্তার করেছে এনআইএ। তাঁর ১৪ দিনের এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement