ডিমের ভয়ে আদালত চত্বরে লুঙ্গি তুলে দৌড় লাগালেন ধৃত তৃণমূল নেতা। ভোট-পরবর্তী হিংসা, জমি দখল ও তোলাবাজির অভিযোগ-সহ একাধিক মামলায় দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার তাঁকে ধৃতে বারাসত আদালতে পেশ করেছে পুলিশ। বিশৃঙ্খলা এড়াতে গাড়ি থেকে নামানোর পর রবিউলকে দৌড় করিয়ে আদালত কক্ষে ঢোকান পুলিশ কর্মীরা। তাঁকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই রবিউলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল। এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, ভেড়ি তৈরির নামে জমির মালিকদের প্রাপ্য অর্থ না দেওয়া এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২১ সালের বিধানসভা ও ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের পর দেগঙ্গায় রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়ায়। রাজ্যে পালাবদলের পর রবিউলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে তোলার আগে দেগঙ্গা থানা চত্বরে উত্তেজনার আশঙ্কা ছিল। তাই ভোরেই তাঁকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়। বিশৃঙ্খলা এড়াতে গাড়ি থেকে নামানোর পর তাঁকে দৌড় করিয়ে আদালত কক্ষে ঢোকানো হয়। সেই সময় রবিউলকে লুঙ্গি তুলে দৌঁড়তে দেখা যায়।
এনিয়ে দেগঙ্গার বিজেপি নেতা তরুণকান্তি ঘোষের দাবি, ‘‘এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন সন্ত্রাস, তোলাবাজি ও জমি দখলের রাজনীতির শিকার। শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করলেই হবে না, গোটা চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’’
রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক তৃণমূল নেতাকে ডিম ছুড়ে মারার ঘটনা সামনে আসছে। সেই তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। আজ আদালতে পেশের সময় ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার দিকেও ডিম ছোড়া হয়। এই ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবার নিরাপত্তা জোরদার করছে পুলিশ। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় এদিন রবিউলকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও পুলিশের এই পদক্ষেপের কারণে আদালত চত্বরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
