পরকীয়ায় জড়িয়েছিল স্বামী! হাতেনাতে ধরে ফেলায় স্বামীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেছিলেন স্ত্রী। তাতেই অগ্নিশর্মা হয়ে যায় স্বামী। স্ত্রীকে বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে! হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের মানিকচক থানা এলাকায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মৃতার শ্বশুরবাড়ির সকলেই পলাতক। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ২০ বয়সের চুন্নি খাতুন নামে ওই তরুণীর বাপেরবাড়ি বিহারের কাটিহার জেলার বাইরিয়া এলাকায়। বছর খানেক আগে মানিকচক থানার নুরপুর এলাকার পেশায় ব্যবসায়ী সামিউলের সঙ্গে সম্বন্ধ করে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর প্রথম কয়েক মাস ওই দম্পতির মধ্যে ভালোই ছিল সব কিছু। কিন্তু ধীরে ধীরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ দেখা দেয়।
অভিযোগ, সামিউল এক তরুণীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরেছিল। সেই বিষয় জানতে পেরে গিয়েছিলেন স্ত্রী। স্বামীকে ওই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু স্ত্রীর কথা কানে তোলেনি ওই যুবক! শুধু তাই নয়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই বিষয়ে প্রবল ঝামেলাও চলত। বাড়িতে বসেই মোবাইল ফোনে ভিডিওকলে ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলত সামিউল! দিন কয়েক আগে সেই ঘটনা দেখে ফেলেন চুন্নি। রেগে গিয়ে স্বামীর থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে সেটি আছাড় মেরে ভেঙে ফেলেন স্ত্রী!
আর তাতেই আরও অগ্নিশর্মা হয়ে যায় সামিউল। অভিযোগ, স্ত্রীকে বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়! প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়েছিল। শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যাওয়ায় চুন্নির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁর বাপেরবাড়িতেও খবর পাঠানো হয়। চুন্নির পরিবারের তরফে মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। জামাই সামিউল শেখ, দেওর আনিস শেখ, ননদ চামেলি বিবি এবং শাশুড়ি দিলনুর বিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছে। আজ, শনিবার সকালে ওই তরুণী মারা গিয়েছেন। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
