তৃণমূল আমলে কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় দখল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এবার সেই কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে বিক্ষোভ, ধরনায় কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। কার্যালয় ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বললেও প্রশাসনের তরফে এখনও সেই কথা রাখা হয়নি বলে অভিযোগ। বরং এদিন ওই কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়! এরপরই ওই কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের নিয়ে ধরনায় বসেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ।
মুর্শিদাবাদের নওদার আমতলায় ওই কার্যালয় নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। তবে তৃণমূলের তরফে এই বিষয়ে কোনও বক্তব্য রাখা হয়নি। ২০১৮ সালে ওই কার্যালয় তৈরি হয়েছিল বলে খবর। সেসময় তৃণমূলের বর্তমান সাংসদ আবু তাহের খান কংগ্রেসে ছিলেন। পরে তিনি দলবদল করেন। অভিযোগ, ওই দলবদলের পরে সেই কার্যালয়ই তৃণমূল দখল করে নেয়। তৃণমূল শাসনে ওই কার্যালয় তৎকালীন শাসক দলের হাতেই ছিল। রাজ্যের পালাবদলের বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। দিকে দিকে পার্টি অফিস পুনরুদ্ধারের ঘটনাও ঘটছে।
এদিকে পালাবদলের পর থেকে নওদার ওই কার্যালয় বন্ধ ছিল। কংগ্রেসের তরফে সেই কার্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সেটি পুনরুদ্ধারে নওদা থানার পুলিশের সঙ্গেও কংগ্রেস নেতাদের বৈঠকও হয়। পুলিশের তরফে ওই কার্যালয়ের দরজাতেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মুখে মানলেও প্রদেশ কংগ্রেসকে ওই কার্যালয় পুলিশের তরফে খুলে দেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ। এদিন অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন, এর আগে পুলিশের সঙ্গে ছ'বার বৈঠক হয়েছিল। পুলিশ স্বীকার করলেও কার্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে না! সেজন্য এদিন এই বিক্ষোভ কর্মসূচি।
আজ, শনিবার বিকেলে নওদার আমতলায় ওই কার্যালয়ের দরজা খুলে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন অধীররা। কিন্তু পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়! পুলিশের সঙ্গে অধীরের কথা কাটাকাটিও হয়েছিল। শেষপর্যন্ত অধীর ওই কার্যালয়ের সামনেই সিঁড়িতে বসে ধরনা শুরু করেন। অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, এই বিষয়টি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার আলোচনা ও বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। তাই এবার আর আলোচনায় নয়, নিজেদের দলীয় কার্যালয় নিজেদের দখলে ফিরিয়ে নিতে সরাসরি পথে নেমেছেন তাঁরা।
