চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করেই আসানসোলে ঢুকলেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। রবিবার সকালে ২ নং জাতীয় সড়কে দু’দফায় প্রতিনিধি দলের সদস্যদের আটকায় পুলিশ। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের অল্প বাগ-বিতণ্ডাও হয়। এদিন আসানসোলের চাঁদমারি, রামকৃষ্ণ ডাঙাল-সহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় যান প্রতিনিধি সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘুরে দেখেন ত্রাণশিবিরও। সূত্রের খবর, রানিগঞ্জেও যেতে পারেন শাহনওয়াজ হুসেন, ওম মাথুর, বি রামা রাও ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।
[আসানসোলে প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে কেন্দ্র, থাকছেন স্মৃতি ইরানি-রূপা গঙ্গোপাধ্যায়]
কারণটা রাম নবমীর মিছিল। বুধবার তেতে উঠেছিল আসানসোল। সকালে রেলপাড় এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে হিংসার ঘটনা ঘটে। দুপুরের দিকে আসানসোল স্টেশনে সাত নম্বর প্ল্যাটফর্ম লাগোয়া মহুয়া ডাঙাল, ওকে রোড, শ্রীনগর, রামকৃষ্ণ ডাঙাল এলাকায় বেশ কয়েকটি ঝুপড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। শুরু হয় ইটবৃষ্টিও। আক্রান্ত হন বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীরা। আতঙ্কে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দোকানপাট, বাস চলাচল। বুধবার কার্যত বনধের চেহারা নিয়েছিল শিল্পশহর আসানসোল। পুলিশের তৎপরতায় রাতের মধ্যে অশান্তি থেমেছে। কিন্তু, পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। রবিবার ও সোমবার শহরজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবাও। আসানসোলে অশান্তির জন্য শাসকদল ও মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।
[আসানসোলের মানুষকে শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ রাজ্যপালের]
এই পরিস্থিতিতে রবিবার সকালে আসানসোলে পা রাখলেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের চার সদস্য। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিজেপি শাহনওয়াজ হুসেন, ওম মাথুর, বি রামা রাও ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন রানিগঞ্জের বাঁশরী মোড় ও আসানসোল শহরের সীমানায় কালীপাহাড়িতে জাতীয় সড়কে প্রতিনিধিদলের গাড়ি আটকায় পুলিশ। কালীপাহাড়িতে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে পুলিশের মৃদু বচসাও হয়। তবে আসানসোলে ঢুকতে কোনও সমস্যা হয়নি তাঁদের। প্রথমে শহরের আরসিআই নিউ কলোনিতে ত্রাণশিবিরে যান শাহনওয়াজ হুসেন, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়রা। কথা বলেন শরণার্থীদের সঙ্গে। এরপর ১৪৪ ধারা এড়াতে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে রামকৃষ্ণ ডাঙাল, চাঁদমারির মতো স্পর্শকাতর এলাকা পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের ৪ সদস্য। চাঁদমারিতে গিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ শাহনওয়াজ। ফেরার পথে কথা বলতে চেয়ে তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা। কার্যত গাড়ি থেকে নামিয়ে সাংসদকে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি দেখাতে নিয়ে যান তাঁরা। সূত্রের খবর, কলকাতা ফেরার পথে রানিগঞ্জেও যেতে পারে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। বস্তুত, রাম নবমী মিছিলকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীসংঘর্ষে প্রথমে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল রানিগঞ্জেই। বোমার আঘাতে গুরুতর জখম আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিএসপি (সদর) অরিন্দম দত্তচৌধুরি।
[শিলিগুড়িতে বিক্ষোভে পড়লেন শ্রীজাত, ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান হিন্দু জাগরণ মঞ্চের]
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার আসানসোলে যেতে চেয়েছিলেন স্থানীয় সাংসদ ও মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। কিন্তু, কল্যাণপুরে প্রথমে তাঁর পথ আটকান স্থানীয় বাসিন্দারাই। পরে পুলিশও বাধা দেয়। এই নিয়ে সাংসদের সঙ্গে পুলিশকর্তাদের বাগ-বিতণ্ডা হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগও দায়ের করেছেন মন্ত্রী বাবুল সু্প্রিয়। দুর্গাপুর থেকে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়কেও আসানসোল যেতে দেয়নি পুলিশ। এদিকে আবার আসানসোলে চাঁদমারিতে গিয়ে মন্ত্রী মলয় ঘটকও বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
[এটাই বাংলা, হনুমান জয়ন্তীর ব়্যালিতে জল হাতে এগিয়ে এলেন ফিরোজরা]
The post আসানসোলে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল, স্পর্শকাতর এলাকা পরিদর্শন বিজেপির ৪ সাংসদের appeared first on Sangbad Pratidin.
