বন্দিদশা কাটল ৯১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীর (Bangladeshi Fishermen)। বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ওই মৎস্যজীবীরা জলসীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলেন। নৌ সেনা তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল। চারটি ট্রলার করে তাঁরা মাছ ধরতে বেরিয়েছিলেন। ওইসব ট্রলারগুলিও আটক করা হয়। আদালতে তোলা হয়েছিল তাঁদের। আদালতের নির্দেশেই তাঁদের জেলবন্দি থাকতে হয়েছিল। শেষপর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় পাঁচমাসের বন্দিদশা কাটল ৯১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীর। মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাঁদের। অবশেষে নিজের দেশে, নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যাচ্ছেন তাঁরা। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্যবন্দর থেকে ৪টি ট্রলার-সহ ৯১ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী। সেখানে দু'দেশের নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে তাঁদের বাংলাদেশের হাতে হস্তান্তর করা হবে।
প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৫ মাস আগে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ভারতীয় জলসীমায় চলে এসেছিল বাংলাদেশের ৪টি মাছ ধরার ট্রলার। সেই সময় ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী ট্রলার-সহ ৯১ জন মৎস্যজীবীকে আটক করে। আটক মৎস্যজীবীদের তুলে দেওয়া হয় ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশের হাতে। আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশে প্রায় চার মাসেরও বেশি সময় ভারতীয় জেলে বন্দি ছিলেন ওই মৎস্যজীবীরা। অবশেষে সমস্ত আইনি জট কাটে। এরপরই তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।
৫ মাস পর মুক্তি।
আজ, শনিবার ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্যবন্দর থেকে রওনা দিলেন বাংলাদেশের ওই মৎস্যজীবীরা। মৎস্যজীবীদের নিয়ে ট্রলারগুলি এদিন সকালে রওনা হয়। ট্রলারগুলি ছাড়ার সময় ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্যবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনের আধিকারিকরা, ভারতীয় কোস্ট গার্ডের ফ্রেজারগঞ্জ ঘাঁটির কর্তারা এবং ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। অনুপ্রবেশ যাতে না হয়, সেজন্য সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি চলছে বলে খবর।
