shono
Advertisement
Indian Railway

স্টেশনে বসছে সোলার ক্যামেরা, ট্রেনে পাথর ছোড়া ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ রেলের

গত দু'মাসে গোটা খড়গপুর ডিভিশনের বিভিন্ন শাখায় এখনও পর্যন্ত ১০টি সোলার ক্যামেরা লাগিয়েছে আরপিএফের খড়গপুর ডিভিশন।
Published By: Sayani SenPosted: 01:09 PM Jan 21, 2026Updated: 02:03 PM Jan 21, 2026

রেললাইনের ধার থেকে চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনায় রাশ টানতে একাধিক পদক্ষেপ করল রেল কর্তৃপক্ষ। পাথর নিক্ষেপকারীদের চিহ্নিত করতে একদিকে প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে রেলের (Indian Railway) 'অপারেশন জন জাগুরকতা' কর্মসূচিতে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। আর এই দুই পদক্ষেপের জেরে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা অনেকটাই কমানো গিয়েছে বলে আরপিএফের দাবি। গত একবছরে রেলের খড়গপুর ডিভিশনের বিভিন্ন শাখায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রায়ই ঘটেছে। এতে যাত্রীদের বিশেষ কোনও ক্ষতি না হলেও ট্রেনের ক্ষতি হয়েছে। আর পাথর নিক্ষেপকারীদের মধ্যে অনেক নাবালক ও কিশোর থাকে। যাদের ধরা হলেও আদালতে তাদের অভিভাবকদের পেশ করা হয়। আর আদালতে সেইসব অভিভাবকদের মুচলেকা নিয়ে ছাড়া হয়েছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আর ঘটাবে না তাঁদের সন্তানরা। যদি ঘটায় তাহলে তারজন্য অভিভাবকরা নিজেরা দায়ী থাকবেন।

Advertisement

রেলের খড়গপুর ডিভিশনের আরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ২৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ৩২ জনকে। যার মধ্যে নাবালকের সংখ্যা বেশ উল্লেখযোগ্য। আরপিএফের খড়গপুর ডিভিশনের সিনিয়র সিকিউরিটি কমিশনার প্রকাশ কুমার পান্ডা বললেন, "বাচ্চারা সাধারণভাবে না বুঝে খেলার ছলে এই ধরনের ঘটনা ঘটায়। কিন্তু পরে ঘটনার তদন্ত করে আমরা তাদের চিহ্নিত করতে পারি। তাদের তো ধরা হয়ই। তার সঙ্গে অভিভাবকদের আদালতে হাজির করিয়ে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর সন্তানরা ঘটাবে না এইরকম একটি মুচলেকা লিখিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।" পাশাপাশি এই ধরনের ঘটনা যেখানে ঘটে, সেখানে রেলের (Indian Railway) কর্মীরা গ্রামে গিয়ে চিহ্নিত হওয়া পাথর নিক্ষেপকারীদের বাড়িতে পৌঁছে সচেতন করেন 'অপারেশন জন জাগুরকতা' কর্মসূচিতে। তবে এই মুহূর্তে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় রাশ টানতে আরপিএফের খড়গপুর ডিভিশন সৌর নির্ভর ক্যামেরা বা সোলার ক্যামেরা লাগানো শুরু করেছে।

গত দু'মাসে গোটা খড়গপুর ডিভিশনের বিভিন্ন শাখায় এখনও পর্যন্ত ১০টি সোলার ক্যামেরা লাগিয়েছে আরপিএফের খড়গপুর ডিভিশন। মূলত যেসব এলাকায় এই পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, সেইসব এলাকাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সোলার ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এতে সাফল্য পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে আরও এই ধরনের সোলার ক্যামেরা বসানো হবে। জানা গিয়েছে, এই ১০টি সোলার ক্যামেরা বসানো হয়েছে খড়গপুর-হাওড়া রেলশাখার টিকিয়াপাড়া, উলুবেড়িয়া-বাগনান স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায়। লাগানো হয়েছে খড়গপুর ইয়ার্ডে। এছাড়া এই ক্যামেরা লাগানো হয়েছে খড়গপুর-টাটানগর রেলশাখার ঘাটশিলা-গালুডি স্টেশনের মাঝে। আর লাগানো হয়েছে ওড়িশার বালেশ্বর স্টেশনের আগে। আরপিএফের খড়গপুর ডিভিশনের সিনিয়র সিকিউরিটি কমিশনার প্রকাশ কুমার পান্ডা বলেন, "আপাতত আমরা ১০টি সোলার ক্যামেরা লাগিয়েছি। তাতে সাফল্য অনেকটাই পাওয়া গিয়েছে। এইসব এলাকায় এখন চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমরা এখন এই পদক্ষেপের সাফল্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। সাফল্য আরও পেলে ভবিষ্যতে আরও কিছু এলাকায় এই ক্যামেরা লাগানো হবে।"

তবে ইতিমধ্যে এই ক্যামেরার মাধ্যমে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের দু'টি ঘটনা চিহ্নিত করা গিয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জানালেন, এরকম চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ধরা পড়লে রেলের আইনের ১৫৩ ধারায় পাঁচ বছরের জেল হতে পারে। জানা গিয়েছে, একমাত্র বন্দেভারত এক্সপ্রেসের বাইরের দিকে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় পাথর নিক্ষেপকারীদের চিহ্নিত করা সহজ হয়। কিন্তু বাকি কোনও ট্রেনে এই সুবিধা না থাকায় ঘটনার পর তদন্তে নেমে পাথর নিক্ষেপকারীদের চিহ্নিত করতে রীতিমতো নাজেহাল হতে হয় আরপিএফকে। তবে এখন এই সোলার ক্যামেরা লাগানোয় একদিকে যেমন চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় রাশ টানা সম্ভব হচ্ছে, অপরদিকে কেউ ঘটনা ঘটালে তাকে চিহ্নিত করতে সুবিধা হচ্ছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement