বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পের জমি পরিদর্শনে কেন্দ্রীয় শিল্প দপ্তরের অধিকারিকরা। বন্ধ হিন্দুস্তান কেবলস রূপনারায়ণপুর ইউনিট পরিদর্শন করলেন কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প দপ্তরের আধিকারিক কে ডি প্রসাদ। তাঁর এই সফরে হিন্দুস্তান কেবলসে ফের নতুন করে তৈরি হল শিল্প সম্ভাবনা।
সোমবার দিল্লি থেকে হিন্দুস্তান কেবলস পরিদর্শন করেন ভারী শিল্প দপ্তরের আধিকারিক কে ডি প্রসাদ। সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমি রেজিস্ট্রেশন দপ্তরের আধিকারিকরা। দু'ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁরা পরিদর্শন করলেন কারখানার জমি। হিন্দুস্তান কেবলসে গত দশ বছরে উচ্চপদস্থ কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকরা আসেননি। সূত্রের খবর, কেবলসের কিছু জমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তরিত হতে চলেছে। এই জমিতে একাধিক সংস্থা শিল্প গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছিল। রাজ্য সরকার সেই উদ্যোগকে রূপায়িত করার চেষ্টা করছে বলে অনুমান। জানা গিয়েছে, মাস কয়েক আগে থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকেরা আগেই এখানকার জমি সম্বন্ধে খুঁটিনাটি তথ্য নিয়ে রেখেছিলেন।
কেবলসের কিছু জমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তরিত হতে চলেছে। এই জমিতে একাধিক সংস্থা শিল্প গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছিল।
এদিন দেশবন্ধু পার্ক সংলগ্ন জমি ও আপারকেশিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জলাধার ঘেঁষা এলাকা পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের ভারী শিল্প মন্ত্রকের আধিকারিক কে ডি প্রসাদ, হিন্দুস্তান কেবলসের পক্ষে ডি সামন্ত, রাজ্য সরকারের কুলটির ভূমি আধিকারিক দেবাশীষ সাউ-সহ অন্য আধিকারিকরা। এই জমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে রাজ্য সরকার নেওয়ার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে বাজারদর অনুযায়ী নির্দিষ্ট জমির মূল্যায়ন এবং পরবর্তীতে তা রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বলে খবর। এই পরিদর্শনের ফলে প্রায় হাজার একর জমি-সহ পড়ে থাকা হিন্দুস্তান কেবলসে নতুন করে আবার শিল্প সম্ভাবনা দেখা দিল বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদী।
উল্লেখ্য, এর আগে দেশের একাধিক আধা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখানকার জমি পরিদর্শন করা হয়। সেই বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে দু'একটি বিষয় অনুমোদনের বিলম্বে যাবতীয় প্রক্রিয়া থেমে আছে। ২০১৭ সালে পুরোপুরি ভাবে বন্ধ হয়ে যায় হিন্দুস্তান কেবলস। তারপর থেকে কেবলস কারখানার জমি জঙ্গলে পরিণত হয়। ৩১ জন নিরাপত্তা রক্ষী এখন সেই জমি আগলে রেখেছেন। এলাকাবাসী চাইছেন শিল্পের পরিবর্তে এখানে শিল্পই আসুক। হিন্দুস্তান কেবলস পুনর্বাসন সমিতির সভাপতি সুভাষ মহাজন বলেন, "এখানে শিল্প আসুক সেটা সবাই চান। শিল্প এলে স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থান হবে। তার সাথে সাথে এলাকার উন্নয়ন হবে। আমরা সকলেই চাই, এখানে ভারী শিল্প গড়ে উঠুক দ্রুত।"
