সুটিয়া খুন ও গণধর্ষণ কাণ্ডে প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস খুন (Barun Biswas Case) হয়েছিলেন। সেই খুনে আজও সঠিক বিচার হয়নি বলে বরুণের পরিবারের দাবি। এবার বরুণ বিশ্বাস খুনে নাম জুড়ল বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মমতাকে 'ষড়যন্ত্রকারী' হিসেবে দাবি করে পুলিশের কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন বরুণের সহযোদ্ধা, পেশায় শিক্ষক নন্দদুলাল দাস। কেবল মমতাই নয়, প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক-সহ একাধিক জনের নামও রয়েছে।
গত মঙ্গলবার বনগাঁ পুলিশ সুপার কলিতা দাশগুপ্তকে চিঠি দিয়েছেন প্রতিবাদী নন্দদুলাল দাস। তাঁর অভিযোগ, ২০১২ সালে বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত তদন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কারণেই হয়নি। অতীতে বরুণের সঙ্গেই সুটিয়া খুন ও গণধর্ষণ কাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন সামিল হয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দা নন্দদুলাল দাস। পুলিশের কাছে চিঠিতে আবেদন করা হয়েছে, তাঁর এই অভিযোগকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হোক। নতুন করে সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্ত হোক।
২০১২ সালের ৫ জুলাই প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস খুন হয়েছিলেন। মাঝে পেরিয়ে গিয়েছে ১৪টা বছর। এখনও বরুণ বিশ্বাস খুনে 'সঠিক' বিচার হল না বলে অভিযোগ। ১৪ বছর তদন্তের নামে প্রহসন! এমনই অভিযোগ তুলে বরুণ বিশ্বাসের পরিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছেন।
নন্দদুলালের দাবি, বরুণ বিশ্বাসের খুনের ঘটনায় প্রতিবাদে মুখ খুলে তাঁকেও হেনস্থা, হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছিল। তৃণমূল সরকারের আমলে তাঁকে একাধিকবার ভয় দেখানো হয়েছিল। মাওবাদী তকমা দিয়ে 'মিথ্যা' মামলাও তাঁর নামে করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। খুনের দায়, সিপিএমের উপর তৃণমূলের লোকজন চাপিয়ে আসল বিষয়কে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ।
নন্দদুলাল অভিযোগপত্রে লিখেছেন, বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের মূল দুই ষড়যন্ত্রকারী হলেন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও ওই হত্যাকাণ্ডে যারা যুক্ত, তারা হলেন- তপন সিংহ, প্রদীপ ঘোষ, বিষ্ণু ঘোষ, সুখেন বালা, ধ্যানেশ গুহ, মিহির বিশ্বাস, দেবেন ঘোষ। ষড়যন্ত্রে আরও অনেকে যুক্ত বলেও অভিযোগ।
নন্দদুলালের দাবি, বরুণ বিশ্বাসের খুনের ঘটনায় প্রতিবাদে মুখ খুলে তাঁকেও হেনস্থা, হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছিল। তৃণমূল সরকারের আমলে তাঁকে একাধিকবার ভয় দেখানো হয়েছিল। মাওবাদী তকমা দিয়ে 'মিথ্যা' মামলাও তাঁর নামে করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
২০১২ সালের ৫ জুলাই প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস খুন হয়েছিলেন। মাঝে পেরিয়ে গিয়েছে ১৪টা বছর। এখনও বরুণ বিশ্বাস খুনে 'সঠিক' বিচার হল না বলে অভিযোগ। ১৪ বছর তদন্তের নামে প্রহসন! এমনই অভিযোগ তুলে বরুণ বিশ্বাসের পরিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছেন। বাম জমানায় উত্তর ২৪ পরগনার 'সুটিয়া গণধর্ষণ কাণ্ড' রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। আদালতে চলে মামলা। সেই মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশন (মেন) স্কুলের বাংলার শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। স্কুল থেকে ফেরার পথে গোবরডাঙা স্টেশনের বাইরে তিনি গুলিতে 'খুন' হয়েছিলেন। তৃণমূল জমানায় এই প্রতিবাদী শিক্ষকের মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বাংলাকে।
সেই সাক্ষাতের পরেই বড় পদক্ষেপ শুভেন্দুর। খুনের মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে দেবরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়োগ করল রাজ্য। শুক্রবার এই খুনের মামলায় ৩৭ তম ব্যক্তির সাক্ষ্যগ্রহণ হয় বনগাঁ মহকুমা আদালতে। সঠিক বিচারের আশায় ফের বুক বাঁধছেন বরুণের পরিবার ও সুটিয়া। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে সেভাবে পুলিশি তদন্ত হয়নি। এত বছর হয়ে গেলেও আজও সেই মামলার সাজা হয়নি। ঘটনার মাস্টারমাইন্ড কে বা কারা? সেসব কিছুই সামনে আসেনি বলে অভিযোগ।
