কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিতি। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসতের সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। বুধবার রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে পাঠানো চিঠিতে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অল ইন্ডিয়া মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে কাকলি লিখেছেন, “যে পদে থেকে মহিলা সাংসদের প্রতি অন্য এক অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না, সেখানে থাকার অর্থ হয় না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নাম না করলেও তাঁর নিশানায় ছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকেও কোনও সহানুভূতি বা সহযোগিতা পাননি তিনি। ফলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভই এবার প্রকাশ্যে এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কাকলি লিখেছেন, “যে পদে থেকে মহিলা সাংসদের প্রতি অন্য এক অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না, সেখানে থাকার অর্থ হয় না।”
চিঠিতে শুধু সাংসদ বিতর্ক নয়, রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক ইস্যুতেও দলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কাকলি। তিনি লিখেছেন, “গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গ ও দলকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও ঘটনা আমার বিবেককে গভীরভাবে আলোড়িত করেছে।” আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং তা ঘিরে “তথ্য ধামাচাপার অভিযোগ” সমাজকে ব্যথিত করেছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। পাশাপাশি আইপ্যাকের “অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব” নিয়েও সরব হয়েছেন বারাসতের সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, “গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তে কোনও অস্বচ্ছ প্রভাব যদি সংগঠনের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তবে তা দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পক্ষে শুভ হতে পারে না।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই ইস্তফা আচমকা নয়। বিধানসভা ভোটে পালাবদলের পর তাঁকে চিফ হুইপ পদ থেকে সরানো হয়েছিল। এরপর ‘চার দশকের আনুগত্য’-র ফেসবুক পোস্ট, দলের অন্দরের কার্যকলাপ ও আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্য প্রশ্ন তুলে বারাসত সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার ঘোষণাও করেছিলেন তিনি। এর মধ্যেই মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলির উপস্থিতি নতুন জল্পনা তৈরি করে।
যদিও তাঁর দাবি ছিল, সাংসদ হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরদিনই সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বেড়েছে। তবে ইস্তফাপত্রে কাকলি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আপাতত তিনি দল ছাড়ছেন না। সাধারণ কর্মী হিসাবেই মানুষের পাশে থাকবেন। এই সিদ্ধান্ত কোনও ব্যক্তিগত অভিমান নয়, বরং “দল, গণতন্ত্র ও জনজীবনের প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা” থেকেই নেওয়া বলেই দাবি করেছেন তিনি।
