ফাঁসির সাজা মাথায় নিয়েই স্বদেশে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি দেশে ফিরবেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন। আর তাতেই বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার থেকে বর্তমান বিরোধী - সকলেই তাঁকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, জুলাই বিপ্লবের সময়ে গণহত্যায় দায়ে ফাঁসিকাঠে ঝুলতেই হবে মুজিবকন্যাকে। এনিয়ে এবার মুখ খুললেন এ রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রবিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারেক প্রশাসনের বৈধতাকেই কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেললেন তিনি। বললেন, ‘‘ওখানে এখনও অবৈধ সরকার চলছে।''
দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘‘বাংলাদেশে যা চলছে, তা ঠিক হচ্ছে না। ওখানে এখনও অবৈধ সরকার চলছে। উনি (হাসিনা) জনগণের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। উনি দেশে ফিরতেই পারেন। তবে এটাও ঠিক, গত ২-৩ বছর ধরে বাংলাদেশে যা যা ঘটেছে, তা একেবারেই ঠিক ছিল না। আমরা চাই, ওখানে নির্বাচিত সরকার ঠিকমতো কাজ করুক। আর তাছাড়া এটা ওই দেশের ব্যাপার। আশা করি, ওরা সব সামলে নেবে।''
২০২৪ সালে বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের ফলে দীর্ঘতম মেয়াদে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়। তিনি নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেন। এখনও ভারতের 'রাজনৈতিক আশ্রয়ে' রয়েছেন তিনি। সেখান থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানিয়েছেন, প্রাণ গেলেও স্বদেশে তিনি ফিরবেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই ঢাকায় পা রাখবেন। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সে দেশের শাসক-বিরোধী শিবির অর্থাৎ বিএনপি, জামাত, এনসিপি সবাই একযোগে সরব হয়েছেন। জুলাই আন্দোলন মামলায় গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন হাসিনা। তাঁর ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছে আদালত। এই পরিস্থিতিতে দেশে পা রাখলেই সেই সাজা কার্যকর হবে বলে স্পষ্টই ছিল। সম্প্রতি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা সকলেই সেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কার্যত হাসিনার পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে নিশানা করলেন। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলাদেশে যা চলছে, তা ঠিক হচ্ছে না। ওখানে এখনও অবৈধ সরকার চলছে। উনি (হাসিনা) জনগণের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। উনি দেশে ফিরতেই পারেন। তবে এটাও ঠিক, গত ২-৩ বছর ধরে বাংলাদেশে যা যা ঘটেছে, তা একেবারেই ঠিক ছিল না। আমরা চাই, ওখানে নির্বাচিত সরকার ঠিকমতো কাজ করুক। আর তাছাড়া এটা ওই দেশের ব্যাপার। আশা করি, ওরা সব সামলে নেবে।''
