দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন। রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছেন। ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব সামলিয়েছেন। তৃণমূল আমলের দুর্নীতির কোন দাগ লাগেনি তাঁর গায়ে। এ হেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়র মৃত্যুতে (Asish Banerjee Death) চাঞ্চল্য। প্রাথমিক অনুমান, তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। ঘটনায় অবাক রাজনৈতিক সতীর্থরাও। কালীঘাট তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ বলছেন, "সামাজিক কলঙ্কের ভয় মেনে নিতে পারলেন না। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।" যাঁর কাছে ছাব্বিশের নির্বাচনে হেরে যান আশিস সেই ধ্রুব সাহা বলছেন, "দিনকয়েক আগে দেখা হয়েছিল। এমনটা করবেন কিছু বোঝা যায়নি। পিছনে অনেক কারণ আছে বলে মনে করছি আমরা।" স্থানীয় নেতৃত্ব জানাচ্ছেন তাঁরা অভিভাবক হারালেন।
বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূলের দলীয় কার্যলায় থেকে উদ্ধার হয় আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ। একটি ঘরের ফ্যানের সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় আশিসের দেহ পাওয়া যায়। সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে লেখা তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। কিন্তু কেন আত্মঘাতী হলেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা। কালীঘাট তৃণমূলের নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, "সামাজিক কলঙ্কের ভয় মেনে নিতে পারলেন না। ভালো তৃণমূল হয়েও বাঁচতে পারলেন না। বিজেপিকে এর দায় নিতে হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।"
পাশাপাশি বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, "দিনকয়েক আগে দেখা হয়েছিল। এমনটা করবেন কিছু বোঝা যায়নি। পাঁচবছরের বিধায়ক শেষ বয়সে এসে কেন এই রকম করলেন তার তদন্ত হওয়া উচিত। প্রয়োজনে অন্য কোনও সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত হোক। পারিবারিক কিংবা দলীয় কোনও কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক।"
স্থানীয় নেতৃত্ব ত্রিদিব ভট্টাচার্য বললেন, "বেদনাদায়ক খবর। এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। শোকপ্রকাশের ভাষা নেই। ভিতরে কী চলছিল জানি না।" ময়ূরেশ্বর এক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ধীরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন " আশিসবাবু আমার শিক্ষকও ছিলেন। রাজনৈতিক গুরুও ছিলেন। এই ঘটনা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখুক।"
প্রাক্তন অধ্যাপক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন। কৃষিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃণমূল সরকারের আমলে তিনি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বও সামলিয়েছিলেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন তিনি। তারপর থেকেই কার্যত আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
