ধীমান রায়, কাটোয়া: পণের দাবি তো ছিলই। তার উপর কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার জন্যও শুনতে হত খোঁটা। প্রায় ৫ বছর ধরে চলছিল মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। একদিন নেমে এল চরম আঘাত। অ্যাসিড দিয়ে প্রাণে মারার চেষ্টা রুখে দিলেন গৃহবধূ। কিন্তু অ্যাসিডে পুড়ে যায় হাত। সেই অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। সুস্থ হয়ে ছাড়া পেতেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন আক্রান্ত গৃহবধূ। আক্রান্ত বধূ নুরতাজ বিবি এখন বাপের বাড়িতেই রয়েছেন।
[গায়ের রং কালো, বিয়ের সম্বন্ধ ভাঙায় আত্মঘাতী কিশোরী]
কাটোয়ার বাসিন্দা নুরতাজের সঙ্গে ৮ বছর আগে বিয়ে হয় হিরাসিন শেখের। একসময় এমব্রয়ডারির কাজ করত সে। এখন রাজমিস্ত্রি। কিন্তু ৭ জনের সংসার টানা দায়। এক এক দিন কাজই থাকত না হিরাসিনের। নুরতাজের সাড়ে পাঁচ বছরের একটি মেয়ে আছে। কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য বহুদিন ধরেই নানা গঞ্জনা শুনতে হত। তাও সেসব মুখ বুজে সহ্য করে নিতেন নুরতাজ। কিন্তু বাপের বাড়ি টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিত স্বামী। অনেকদিন ধরেই ৬০ হাজার টাকা বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে আসার জোর করে হিরাসিন। রাজি না হওয়ায় গত ২৫ জুলাই অত্যাচার চরমে পৌঁছে যায়। শ্বশুর নুর আলি, শাশুড়ি আরুফা বিবি, দুই ভাসুর মোসলেম ও মহসিন শেখ, দেওর নাসরিন শেখ সেদিন নুরতাজের উপর শারীরিক অত্যাচার করে বলে অভিযোগ। তখনই নাকি স্বামী তাঁর গায়ে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন বাধা দিতে গিয়ে অ্যাসিড হাতে পড়ে যায় নুরতাজের। খবর যায় বাপের বাড়িতে। তাঁরাই এসে নুরতাজকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
[স্কুলের শৌচাগারে অশরীরী আতঙ্ক, বাঁকুড়ায় গ্রেপ্তার ২ ওঝা]
সুস্থ হয়ে ২৯ তারিখ ছাড়া পান ওই গৃহবধূ। তারপর মঙ্গলবার কাটোয়া থানায় স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির বাকি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত বধূ। ওসি সঞ্জীব ঘোষ জানিয়েছেন, গৃহবধূর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। সম্ভবত ঘটনার দিনই তারা পালিয়ে যায়।
The post পণের দাবিতে গৃহবধূর গায়ে অ্যাসিড, পলাতক স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন appeared first on Sangbad Pratidin.
